
চট্টগ্রাম : হাটাজারি জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী হামজা কলোনি এলাকায় দরিদ্র স্কুল শিক্ষার্থী কিশোরী ঝুমা আক্তারকে (১২) খুনের অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নারী ও শিশু দমন ট্রাইবুনাল-২-এর বিচারক তিন আসামী আল আমিন, ফরিদা ইয়াসমিন ও মো. এনাম এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ; অধিকন্তু নিহত ঝুমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।
মামলার বাদী ও নিহত শিশুর মা বিলকিস বেগম জানান, ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল যথারীতি আমি এবং আমার স্বামী পেশাগত কাজে বেরিয়ে পড়ি। আমার তিন মেয়ের মধ্যে ঝুমা ও সুমা স্কুলে পরিক্ষা দিতে যায় এবং আরেক মেয়ে পুর্নিমা ছোট ছেলে আবদুল্লাহকে নিয়ে বাড়িতে খেলতে থাকে। কিন্তু ঐ দিন ঝুমার পরীক্ষা না হওয়াতে ঝুমা বাসায় চলে আসে এবং ছোট ভাই-বোনদের সাথে খেলতে থাকে।
দুপুর প্রায় ০২ টার দিকে আমার বড় মেয়ে স্কুল থেকে বাসায় আসে। পুর্নিমা ও ছোট ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে এলাকার মাইক কোম্পানির কুয়ায় গোসল করতে যায়। গোসল শেষে এলাকাবাসীর চিৎকার শুনে বাসায় এসে ঝুমাকে ঘরের চালের সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পায়।
এসময় আসামী আল আমিন, ফরিদা ইয়াসমিন, এনাম, ঘরেই ছিল। আসামীরা এটিকে আত্নহত্যা বলে চালালেও, ঝুমার পা দুটি মাটিতে এমনভাবে লাগানো ছিল যে, দেখেই মনে হচ্ছিল গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘটনার পর ঝুমার আত্মহত্যার কথা প্রচার করতে থাকে আসামিরা।
এঘটনায় মামলা না করার জন্যও চাপ দিতে থাকে তারা। আসামী ইয়াসমিন হুমকি দেয় এই বলে যে একটা মেয়েকে তো হারিয়েছিস অন্য মেয়েকেও হারাবি? তাদের নিষেধের পরও গত ২০ মে প্রধান আসামি আল আমিনসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে চট্টগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে-২ এ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি।
মামলায় গত ৮ জানুয়ারী আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। তারপর থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ বাড়িয়ে দেয় আসামীরা। তাদের কথামত মামলা তুলে না নিলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে তারা। এছাড়া আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়া করবে এবং আমার মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে যাবে-এমন হুমকিও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমতাবস্থায় আমার মেয়েদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এক মেয়েকে হারিয়েছি আবার যদি অন্য সন্তানকেও হারাতে হয়, প্রতিনিয়ত এমন আতংকে এখন দিন কাটছে আমাদের। আসামিরা প্রভাবশালী, তাই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। মূল আসামিদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উঠে আসবে। বলেন নিহত ঝুমার মা।
বাদীকে আইনি সহায়তা দেওয়া আইনজীবী তুতুল বাহার বলেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। এবং সব কিছু ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আদালত নারাজি গ্রহণ করে তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
