শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

মান্নানকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২০, ৭:২৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা : বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সদ্য প্রয়াত সরকারদলীয় সাংসদ আব্দুল মান্নানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখাতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে এই সাংসদের শোক প্রস্তাবের উপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আক্ষেপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জালালকে ( ডা. মোস্তফা জালাল) রাখা হয়েছে, নানক (জাহাঙ্গীর কবির নানক) এসেছে। মান্নান আসেনি। এই কারণে মান্নানের মনে একটু কষ্ট ছিল। আজ এটা নিয়ে আমারও আক্ষেপ হচ্ছে। ছাত্রজীবন থেকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, জিয়াবিরোধী আন্দোলন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, খালেদাবিরোধী আন্দোলন- প্রতিটি আন্দোলনেই বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলো মান্নান। বগুড়ার মতো খুব কঠিন জায়গায় তাকে মনোনয়ন দিলাম। তারপরও পরপর তিন বার সেখান থেকে সে জিতে আসলো।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক থাকাকালে আব্দুল মান্নানের কাজের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচার সম্পাদক থাকাকালে মান্নান অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিল। যখনই যে কাজ দিতাম, চট করে সে করে ফেলতো। তার ড্রাফটিং ছিল চমৎকার। আমার পাশে বসে বসে সে অনেক লেখালেখি, সাংগঠনিক কাজ করেছে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলীয় কর্মকাণ্ড প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো মান্নান। আমি বলতাম, একদিন তোমাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে আমি চলে যাব। তোমরাই দলকে পরিচালিত করবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু মান্নান-ই আগে চলে গেলো। কদিন আগে বাগের হাটের সংসগ সদস্য মোজাম্মেল হক সাহেব চলে গেলেন। তারও আগে সাবেক সংসদ সদস্য বাপ্পী চলে গেলো। জন্ম নিলে মৃত্যু হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এরা যথন চোখের সামনে চলে যায় তখন খুব কষ্ট হয়।

মৃত্যুর দুইদিন আগেও আমার সাথে অনেক কথা হলো মান্নানের। কথা বলার এক পর্যায়ে দেখলাম তার শরীর খারাপ। পরে তাকে বললাম তোমার শরীরটা মনে হয় খারাপ। ভালোভাবে চেকআপ করাও, চিকিৎসা নাও। ঠিক তার দুদিন পরিই হাসপাতালে ভর্তি। যেদিন মারা গেল ওইদিন আগের রাত ৯ টার সময় ডা. সৌরভের সঙ্গে কথা বললাম। সৌরভ আমাকে বললো, আপনা উনার অবস্থা ভালো নয়, আমরা বোধহয় কিছু করতে পারব না। বাইরে পাঠানোর কথা বললে ডা. সৌরভ বললো, তার বাইরে পাঠানোর মত অবস্থা নাই । তার পরদিন তার মৃত্যুর খবর।

ছাত্রলীগকে সুসংগটিত করার দক্ষতা মান্নানের ছিলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ছাত্রলীগের সভাপতি হতো আমি তাদের ইন্টারভিউ নিতাম একা একা অনেকের ইন্টারভিউ নিতাম। তার ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে যখন বলেছি, যদি আমি তোমাকে সভাপতি না বানাই তাহলে তুমি কী করবা । একটি ছেলে আমি পেয়েছিলাম। সে বলেছিলো, না বানালে আমার কোনো দুঃখ নেই, আপনার সাথে রাজনীতি করে যাবো। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তাকেই বানাবো। ওই সময়টাতে ছাত্রলীগের দুরাবস্তা ছিলো। অনেকে ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল সোয়া আটটায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। আব্দুল মান্নান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একুশে/জেআই/এটি