চবিতে অবরোধ: বন্ধ শাটল ট্রেন, শিক্ষক বাস

CUচট্টগ্রাম: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী আত্মহত্যা করেননি, তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ এনে দিয়াজ হত্যার বিচারসহ ৫ দফা দাবীতে চবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডেকেছে তাঁর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া অবরোধের প্রথমদিনে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোন শাটল ট্রেন ছেড়ে যায়নি, চলেনি শিক্ষক বাসও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১১ টার দিকে দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সহ পাঁচ দফা দাবীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকাল অবরোধের ডাক দেয় তাঁর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। অবরোধের প্রথম দিন রোববার সকালে শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেয় তারা, ফলে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে কোন ট্রেন ছেড়ে যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের ষোলশহর স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাহাবুদ্দীন জানান, ‘শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে কোন ট্রেন চলেনি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাওয়া গেলে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হবে।’ এদিকে অবরোধকারীরা শাটল ট্রেন আটকে দেওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারন শিক্ষার্থীরা। অনেকের প্রাক্টিক্যাল ক্লাশ এবং পরীক্ষা থাকায় বাড়তি ভাড়ায় বাসেই যেতে হয়েছে ক্যাম্পাসে। শিক্ষক বাস চলাচল না করায় ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি অনেক শিক্ষকও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, ‘শাটল ট্রেন চলাচল সহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি কাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

প্রসঙ্গগত, গত ২০ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজের লাশ পাওয়ার পরদিন চমেক হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন এমন প্রতিবেদনের পর তা প্রত্যাখ্যান করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে তাকে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে- এমন অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করে তার পরিবার। আদালত মামলা গ্রহণ করে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। সিআইডির চলা তদন্তের মধ্যেই অবরোধের ডাক দিলো তাঁর অনুসারীরা।