বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বঞ্চনার কত রঙ দেখতে চান সুজন

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০, ৮:২৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : আগামি ২৮ জানুয়ারি জানা যাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচন কখন হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগামি মার্চ মাসের যে কোনো দিন অনুষ্ঠিত হতে পারে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য আটঘাঁট বেধে নামছেন জাতীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলছেন, আমি অবশ্যই মনোনয়ন চাইব। শেষপর্যন্ত থাকবো মনোনয়ন দৌড়ে। এবার শেষ দেখে ছাড়বো। বঞ্চনার কত রঙ, কত দিক আছে, আমি দেখতে চাই।

পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় অবস্থানরত খোরশেদ আলম সুজন বুধবার বিকেলে হোয়াটআপ-এ ফোন করে একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন এমন কথা।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা নেত্রী আমাকে তিনবার মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রতিবারই আমার মনোনয়ন রাতের আধারে চুরি করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও নেত্রী কাদের ভাইকে বলেছেন সুজনকে মনোনয়নের চিঠি দিয়ে দাও। এ জন্য আমাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজানা এক শক্তির জোরে রাতারাতি আমার মনোনয়ন চুরি হয়ে যায়। আমি মেনে নিয়েছি। মেনে নিচ্ছি। কারণ এমপি-মন্ত্রীই আমার রাজনীতির একমাত্র ব্রত নয়। রাজনীতি করি জনগণের জন্য, ৪৮ বছর ধরেই জনগণের সুখ-দুঃখ ফেরি করছি।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে ৯ম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে বাঙালি সংস্কৃতি পদদলিত করে পাকিস্তানি ভাবধারা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘পাকিস্তান : দেশ ও কৃষ্টি’ শীর্ষক পাকিস্তানি সংস্কৃতি। আমি তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র। সেই মৌলবাদি সংস্কৃতি, শক্তির বিরুদ্ধে সেই যে মাঠে নেমেছিলাম আজও আছি মাঠে। টান ৫০ বছর আমার মাঠের রাজনীতি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ইন্টার মিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে মহসীন কলেজ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করি।

সুজন বলেন, চবি থেকে সমাজতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই ‘লাইব্রেরি সায়েন্সে’। ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রে নিয়মিত ছাত্রত্ব এবং বয়সের ব্যারিয়ার ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ১৯৮৬ সালে জাতীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হই। সদ্য প্রয়াত ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আবদুল মান্নানসহ তৎসময়ে শীর্ষ ছাত্রনেতারা মিলে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলি। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে গান, কবিতা আবৃত্তি, কবিতা চর্চা, দেয়াললিখন, সম্পাদনা, অভিনয় সব করেছি। নেতৃত্ব দিয়েছি জিয়াবিরোধী, এরশাদবিরোধী, খালেদাবিরোধী, জামায়াত-শিবির মৌলবাদবিরোধী, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সকল আন্দোলনে।

২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ভেটিরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় উদবোধন করতে আসা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পিষ্ঠপ্রদর্শন করি, যেই কর্মসূচি এখন বিদেশেও পালিত হচ্ছে। সেদিন খালেদা জিয়ার চলার পথে তিনকিলোমিটার জুড়ে কেবল পিষ্ঠ আর পিষ্ঠ প্রদর্শন করেছি। কারো মুখ দেখার সুযোগ হয়নি তার, কেবলই পৃষ্ঠ দেখেছেন। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের নতুন রেল স্টেশন উদ্বোধনের সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি লাগিয়ে দিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করার কাজটিও আমি করেছিলাম। ইন্টারমিডিয়েট কলেজের (মহসীন কলেজ) ছাত্র থাকাকালে কলেজ পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. মোজাফফর আহমদ। কলেজে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালুর ব্যাপারে তখন মন্ত্রীর পা ধরে ফেলেছিলাম। সেদিন মন্ত্রী আমার মতো কিশোরছাত্রকে ‘না’ করতে পারেনি, মন্ত্রী বলতে বাধ্য হলেন ইন্টারমিডিয়েট কলেজে গ্রাজুয়েশন কোর্স চালু হবে। পরে তা হয়েছেও।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, জনকল্যাণকে ধ্যান-জ্ঞান করে রাজনীতি করছি। এমপি-মন্ত্রী কিংবা মেয়র হয়তো হতে পারিনি, কিন্তু জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। চোর, ডাকাত, মাস্তান বলে তো অন্তত কেউ গালি দিচ্ছে না। এটাই আমার কাছে পরম প্রাপ্তি। কী পেলাম তার হিসাব আমি খুব একটা করি না। আমার মাঝে কোনো হতাশা নেই। বেদনাও নেই। মাঠেই আমার জন্ম, মাঠেই যেন আমার মরণ হয়-সেটাই আমার বড় প্রার্থনা। হযরত মোহাম্মদ (স.) এর ৬৩ বছরের জীবন। আমার বয়স এখন ৬২ চলছে। সেই হিসেবে সময় হয়তো আর খুব বেশি নেই। প্রতিটি রাজনীতিকের ঈষাণ কোণে একটু-আধটু স্বপ্ন থাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার। জনপ্রতিনিধি একটা বড় প্লাটফরম। এ প্লাটফরম থেকে জনগণের জন্য বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ থাকে।

তাই শেষসময়ে এসে আমি সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই। নগর জুড়ে আমার বিচরণ। নগরের পথঘাট, মানুষজন সব আমার চেনা। ১৭ বছরের ডায়নামিক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে ছিলাম পুরোটা সময়। নগর উন্নয়নে কাছ থেকে দেখেছি তিনি কীভাবে হেমিলনের বাঁশিওয়ালার মতো মানুষকে কাছে টেনেছেন, নাগরিক-কল্যাণ সাধন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য আমি এবার সিরিয়াসলি মনোনয়ন চাইব। এবারও যদি বঞ্চিত হই, কিছু করার নেই। বলার নেই। বঞ্চনার কত রঙ তা হয়তো আরেকবার জানা হবে, দেখা হবে। কী পেলাম, না পেলাম সেই হিসেবের বাইরে গিয়ে তখন জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলব এই বলে, আমার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নয়, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে স্পর্ধিত উচ্চতায় তাতেই আমার আনন্দ। -বলেন খোরশেদ আলম সুজন।