বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

তিন নেতা হাস্যোজ্জ্বল, নিষ্প্রাণ ছালাম!

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০, ৯:০৬ অপরাহ্ণ

হিমাদ্রী রাহা, লোহাগাড়া থেকে ফিরে : প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন এর স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের প্রথম সারির সব নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও ব্যতিক্রম ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

শোকসভার পুরোটা সময় জুড়েই মঞ্চের এক কোণায বিষন্ন অবস্থায় বসে ছিলেন তিনি। এমনকি তাঁর এক পাশে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা ও অপর পাশে কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ্ রফিক বসা থাকলেও তাঁদের সাথে কথা বলেননি তিনি। সভার পুরোটা সময়, অর্থাৎ ৩ ঘণ্টা জুড়েই মঞ্চে বসা নেতাকর্মীদের বিপরীত দিকে মুখ ফিরিয়ে অনেকটা একা, অসহায়ের মতো বসে ছিলেন তিনি।

পক্ষান্তরে তাঁর কাছেই বসা চট্টগ্রাম-৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ছিলেন বেশ প্রাণবন্ত। তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন বেশ প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বল। আলোচনায় অধিকাংশ সময় বক্তা ছিলেন তথ্যমন্ত্রী। মোছলেম উদ্দিন আহমদ আর আ জ ম নাছির উদ্দিন ছিলেন শ্রোতা। মঞ্চে নেতাদের এমন উপস্থিতি দৃষ্টি এড়ায়নি অনেকের।

এদিকে, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সাথে সাথে কারো সঙ্গে কথাবার্তা না বলে হঠাৎই উধাও হয়ে যান ছালাম। এ অবস্থায় সভাশেষে কাউকে কাউকে বলতে শোনা গেছে, তবে কি ভালোভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়লেন আবদুচ ছালাম। নাকি নিজের আপন মানুষকে হারিয়ে মঞ্চেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না তিনি। ছালাম মঞ্চে থাকলেও বক্তৃতা দেননি। বিষয়টিও দৃষ্টিগোচর হয়েছে অনেকের। একদিকে তিন সিনিয়র নেতার খোশগল্প, হাসিঠাট্টা, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে নিয়ে মাতামাতি, অন্যদিকে বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ার কারণেও ছালামের এমন মন খারাপ অবস্থা বলে মনে করেন কেউ কেউ।

তবে জবাব মেলে আবদুচ ছালামের বক্তব্যেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একুশে পত্রিকাকে তিনি জানান, ‘জয়নুল আবেদিন ভাই ছিলেন আমার খুব আপনজন। উনাকে হারিয়ে আমি আপনজনহারা হলাম। মঞ্চের বিপরীত পাশেই ছিলো তাঁর একটি ছবি। সেই ছবির দিকেই পুরোটা সময় আমি তাকিয়ে ছিলাম। বার বার অশ্রুসজল হচ্ছিলাম। উনার মৃত্যুর শোক আমাকে আমৃত্যু তাড়িয়ে বেড়াবে।’

মঞ্চে বক্তব্য না দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি বক্তব্য দেবো কিনা জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো। কিন্তু আমি দিইনি। আমিতো সেখানে বক্তব্য দেয়ার জন্য যাইনি। হাসিঠাট্টার জন্যও যায়নি।’

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে লোহাগাড়া নাগরিক কমিটি আয়োজনে এই শোকসভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লোহাগাড়া নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌসিফ আহমেদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াশেকা আয়শা খান এমপি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

একুশে/এইচআর/এটি

ছবি : আবছার রাফি