রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের মান নিয়ে শিল্পী সংসদের অসন্তোষ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২০, ৯:৪২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম শিল্পী সংসদ নামের একটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সংগঠনটির সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম শিল্পী সংসদের সভাপতি সহিদুর রহমান বলেন, ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা বাজেটের মধ্যে ২ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা চট্টগ্রামের সম্প্রচার নিরবিচ্ছিন্ন করার কাজে খরচ হচ্ছে। এছাড়াও আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও শিল্পীদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য এর বাইরে আরো ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু কাজের বেলা দেখা যায় উল্টো চিত্র। অনুষ্ঠানগুলো মানসম্পন্ন নয়।

তিনি বলেন, গত বছরের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নয় ঘণ্টা সম্প্রচার অনুষ্ঠান করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা, ক্যামেরা, বাদ্যযন্ত্র, শিল্পী ও প্রয়োজক আসলেন ঢাকা থেকে। ফলে চট্টগ্রামের শিল্পীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সহিদুর রহমান আরো বলেন, আমরা যারা চট্টগ্রামের মূলশিল্পী আছি আমাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমাদের আগের মতো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে সুযোগ দেওয়া হলেও যে অনুষ্ঠানের দৈর্ঘ্য ৩০ মিনিট এমন অনুষ্ঠানের জন্য সুযোগ দেওয়া হয় মাত্র ১০ মিনিট। ফলে জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী একজন যন্ত্রশিল্পীর যেখানে ৩৩৩০ টাকা পাওয়ার কথা সেখানে অনুষ্ঠানের স্থিতি কম দেখিয়ে তাকে কম দেওয়া হয়। একটি ৫ মিনিটের গানের জন্য সময় লাগে কমপক্ষে ২০ মিনিট কিন্তু এক্ষেত্রে রিহার্সেল করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয় না। ফলে অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সাধারণ দর্শকরা। আমাদের চট্টগ্রামের অনেক গুণী শিল্পী মারা গেছেন ইতোমধ্যে। কিন্তু তাদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম শিল্পী সংসদের অর্থ সম্পাদক অনুরীমা চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নিতাই কুমার ভট্টাচার্য একুশে পত্রিকাকে জানান, সহিদুর রহমান নামে যে শিল্পী অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন  তিনি সংগীত পরিচালক বিভাগে তালিকাভুক্ত। আগে তিনি নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রতি মাসে দুটি করে সংগীত পরিচালনা করতেন, যা টেলিভিশনের ইতিহাসে নেই। আর উনার প্রোগ্রামে সংগীত পরিচালকের কোনো ভূমিকা নেই। তাই সংগীত পরিচালক হিসেবে যে সম্মানী তিনি পেতেন তা বন্ধ আছে।

‘তাছাড়া সংগীত-পরিচালকের উচিত অনুষ্ঠানে সংগীতের মান যাচাই করা। কিন্তু তা করা হয় না। তাই উনি অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে টেলিভিশনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মাঠে নেমেছেন। আমি এই কেন্দ্রের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করছি। আগে অনেকে নিয়মের বাইরে গিয়ে ৪-৫ টা প্রোগ্রামও করতো। এখন আর এসব হয় না। আর এই কারণেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুইয়ের অধিক প্রোগ্রাম যারা করতেন, তারা কখনো লিগ্যাল নোটিশ, কখনো মামলা, কখনো ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করে নিয়মিত অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি তো নিয়মের বাইরে যাবো না। অতীতের চেয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে। ক্ষেত্রবিশেষে ঢাকা কেন্দ্র থেকেও এগিয়ে আছে চট্টগ্রাম কেন্দ্র।’ যোগ করেন জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য।

একুশে/জেএইচ