বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

আনোয়ারায় চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২০, ৭:৫০ অপরাহ্ণ

 

আনোয়ারা প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চাষাবাদে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মাঝে এখন চাষাবাদে তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই।

উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়ন দক্ষিণের বিল, পূর্বের বিল, চাতরী ইউনিয়নের খেয়াঘর বিল, বারশত ও রায়পুর ইউনিয়নের উপকূলীয় বিল এবং হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর ও তেকোটা বিলের কোথাও কৃষকদের তৎপরতা তেমন দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।

যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু যেন ধু ধু বিল আর বিল। অথচ প্রতিবছর কৃষকরা ঝড়ঝঞ্ঝা, শীত উপেক্ষা করে জামিতে শুধু হালচাষ নয় বিভিন্ন সবজি ক্ষেতও করে থাকেন। কিন্তু এবার হালচাষ দূরের কথা জমিতেও নামতে দেখা যাচ্ছে না স্থানীয় কৃষকদের।

কৃষক আবদুল করিম ও রহিম সরকার বলেন, প্রতি বছরজুড়ে আমরা ২৫০ থেকে ৩০০ শতক জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কিন্তু এখন বাজারে দামের সাথে চাষাবাদের খরচ মিলে না বলেই কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

কৃষকরা জানান, তারা খরচ পুষিয়ে উঠতে পারছে না। কানি জমিতে পাওয়ার টিলারের খরচ ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকা, দৈনিক শ্রমিকের বেতন ৭০০/৮০০ টাকা, কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে ধানের/সবজির দাম নেই। প্রতি আড়ি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। যার কারণে কৃষকদের মাঝে চাষাবাদে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

এই প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আনোয়ারায় ছয়/সাত বছর আগে ১২শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হতো এখন সেইটা ৬শ হেক্টরে নেমে এসেছে।

চাষাবাদে কৃষকের অনীহা কেন জানতে চাইলে কৃষি অফিসার বলেন, আনোয়ারায় ছয় সাত বছর আগে পানি রক্ষা বাঁধ ছিল না তাই কৃষকরা বছর জুড়ে চাষাবাদে তেমন আগ্রহ দেখাতেন না এখন বাঁধ নির্মাণ হয়েছে, কৃষকদের চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি কৃষকদের উৎসাহ প্রদানে আমরা বিভিন্ন প্যাকেজও দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

একুশে/জেআই/এএ