পদত্যাগপত্রের প্রেক্ষিতেই সহকারী প্রক্টর আনোয়ারকে অব্যাহতি : চবি উপাচার্য

CUচট্টগ্রাম: আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে নয়, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর নিজ বাসার একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরীসহ তার পরিবার ও চবি ছাত্রলীগের দিয়াজের অনুসারীরা।

পরে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ অভিযোগ দায়ের করে। আদালত এ অভিযোগ গ্রহন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু, কর্মী রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরোব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান।

অভিযোগ দায়েরের পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ডাক দেয় ছাত্রলীগের একাংশ। তারা বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি দেয়।

রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীকে পদত্যাগ পত্র জমা দেন সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার সকালে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহন করে তাকে সাময়িক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী পদত্যাগ করার বিষয়ে আমার সাথে আলাপ করে আসছেন। কিন্তু আমি তাকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানাইনি। রোববার তিনি প্রক্টরের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ সাময়িক ভাবে তাকে অব্যাহতি দেয়।’

তিনি কেন পদত্যাগ করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তার পরিবার আদালতে অভিযোগ করেন। বিষয়টি এখন আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করছে। এই তদন্ত প্রভাবিত করা হচ্ছে বা হয়েছে- এমন কোন অভিযোগ যেন উঠতে না পারে সে জন্যই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। কোন অবস্থাতেই আন্দোলনকারী বা কারও দাবির প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে প্রক্টরিয়াল বডি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।’

মঙ্গলবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানান উপাচার্য।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি অভিযোগ ওঠায় প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্ব থেকে আমি রোববার পদত্যাগ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমি চাই দিয়াজের পরিবারের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হোক। ভবিষ্যতে কেউ যেন এই তদন্ত প্রভাবিত হয়েছে বলে অভিযোগ করতে না পারে সে জন্যই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।