চবিতে পিঠা-পুলির পসরা


চবি প্রতিনিধি: আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে পিঠা-পুলির গল্প। দেশে ঋতুভেদে হরেক রকমের পিঠা দেখতে পাওয়া যায়। তবে শীতকালে পিঠা-পুলির স্বাদই আলাদা।

কালের বিবর্তনে এই পিঠা-পুলি যেন হারিয়েই যাচ্ছে। তাই দেশের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে পিঠা উৎসব।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে দিনব্যাপী এই আয়োজনের বিকেলে থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, উৎসবে অংশ নেওয়া জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর আলাদা আলাদা স্টল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চ, অঙ্গন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, লোকজ সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রথম আলো বন্ধুসভা, এবং উত্তরায়ণ সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ। এই পাঁচটি সংগঠনের প্রতিটি স্টলে রয়েছে রকমারি পিঠার সমাহার।

পিঠার মধ্যে- পাটিসাপটা, পুলি, পাতা পিঠা, ঝাল পিঠা, নারকেল পিঠা, ভাপা পিঠা বানিয়েছেন কেউ কেউ। কেউ আবার নকশা পিঠা, ঝিনুক পিঠা, জামদানি, সূর্যমুখী, গোলাপি, দুধপুলি, রসপুলি, দুধরাজ, সন্দেশ, আন্দশা, মালপোয়া, পাজোয়াসহ সুন্দর সুন্দর নাম আর ভিন্ন স্বাদের কত্ত পিঠা। আয়োজকদের তথ্যমতে, মেলায় প্রায় একশ’ পদের ভিন্ন ভিন্ন পিঠার সমাহার রয়েছে।

সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত পিঠা উৎসবের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ আরিফ বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে লোকজ সংস্কৃতির আয়োজন খুব একটা হচ্ছে না বললেই চলে। সেই জায়গা থেকে চবি সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিগত তিন বছর ধরে আমরা এই পিঠা উৎসব করে আসছি। সত্যি কথা বলতে গেলে, এই আয়োজন করে আমাদের অর্থনৈতিক লাভ তো দূরের কথা বরং আরও ভর্তুকি দিতে হয়। আশাকরি সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অর্থ সহায়তা পাবো। সেটা পেলে আরো বড় পরিসরে করতে পারবো।

এদিকে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, পিঠা খাওয়া গ্রামবাংলার মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত। কালের বিবর্তনে এ ঐতিহ্য এখন ম্লান হয়ে আসছে। তবে শীত এলে বাংলার ঘরে ঘরে এখনো পিঠা তৈরির উৎসব শুরু হয়। অগ্রহায়ণের নতুন চালের পিঠার স্বাদ সত্যিই বর্ণনাতীত।

তিনি আরো বলেন, এ সমস্ত নান্দনিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে। গ্রাম বাংলার নানা বৈচিত্রের পিঠা সম্পর্কে শহুরে জীবনে তেমন সাড়া না জাগালেও গ্রামাঞ্চলে এখনো এর প্রচলন আছে। এখানে অনেক পিঠা দেখতে পেলাম, যেগুলো আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।