চট্টগ্রাম: কমবয়সীদের কাছে সিগারেট বিক্রি না করার জন্য দোকানদারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার মর্জু। মঙ্গলবার দুপুরে সদরঘাটের আওতাধীন ২৯ নং বিটের ‘উঠান বৈঠকে’ তিনি এই অনুরোধ জানিয়েছেন।
ওসি মর্জিনা বলেন, ‘মাদকাসক্তদের প্রায় প্রত্যেকের শুরুটা হয়েছে সিগারেট দিয়ে। প্রথমে দোকান থেকে সিগারেট কিনে খায়। পরে সিগারেট ছেড়ে অন্য মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকের হাতেখড়ি সিগারেটে । সিগারেট একটা ভয়ংকর মাদক। তরুণ সমাজসহ সবাইকে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।’
‘দোকানদারদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা কমবয়সী শিশু, তরুণদের কাছে সিগারেট বিক্রি করবেন না। এটা বন্ধ করা গেলে মাদকাসক্তের হার ৮০ ভাগ কমে যাবে।’ -বলেন ওসি মর্জিনা আক্তার।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা খারাপ ছেলেদের সাথে মিশছে কিনা, খেয়াল রাখবেন। সাধারণ শিক্ষায় কেউ আগ্রহী না হলে, তাকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করুন। কম্পিউটার, ড্রাইভিং, মেশিনারিজ নানা কাজ যাতে শিখে, সে ব্যবস্থা নিন।’
সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে এককভাবে নয়, দলবদ্ধভাবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে হবে। আপনারা সামাজিকভাবে না পারলে আমাদের কাছে আসবেন। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’
‘কারা ইভটিজিং, মাদক ও খারাপ কাজে জড়িত- তাদের একটি তালিকা আমরা তৈরী করছি। ইতিমধ্যে এমন অপরাধী কয়েকজনকে আমরা গ্রেফতারও করেছি। এই এলাকায় বিজয় নামের একটা ছেলের অত্যাচারে আপনারা অতিষ্ট ছিলেন, আপনাদের সহযোগিতায় তাকে আমরা গ্রেফতার করেছি।’- যোগ করেন ওসি মর্জিনা।
বাড়িওয়ালারাদেরকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাই করে নেবেন। একজন স্কুল শিক্ষক আপনাকে বাসা ভাড়া ৮ হাজার টাকা দিতে পারলে, সেখানে একজন মাদক ব্যবসায়ী আপনাকে দেবে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। বেশী ভাড়ার লোভে আপনি একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ভাড়া দিলেন। এমনটা করা যাবে না। আপনাকে বাসা ভাড়া দিতে হবে ওই শিক্ষককে। কারণ একজন মাদক বিক্রেতা পরবর্তীতে আপনাকে মাদকসেবীও বানিয়ে ফেলতে পারে।’
সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, ‘বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা জনমানুষের কাছাকাছি যেতে চাই। কিছু কিছু বিষয় আছে, যেগুলো লিখিত অভিযোগ করা যায় না। ওই অভিযোগগুলো আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে চাই। এতে আপনার সাথে পুলিশের কোন দূরত্ব থাকবে না। আমরা জনগণের সাথে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরী করতে চাই।’
‘পুলিশ জনগণের বন্ধু- এ কথা তো শুধু মুখে বললে হবে না। আমি আপনার কাছে না গেলে, আপনি আমার কাছে না আসলে তো হবে না। আমি কিন্তু আপনার কাছে এসেছি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে, এখন আপনি যদি ভালো মানুষ হোন, হাত বাড়াবেন। যদি খারাপ হোন এড়িয়ে চলবেন।’ – বলেন পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাতের বেলা যখন কারো ঘরে যাই, দরজা নক করলে, যে লোকটা খারাপ, সে লোকটার ঘাম কিন্তু অটোমেটিক ঝরতে থাকে। আর যে লোকটা ভালো, সে বলবে, ভাই এত রাতে আসছেন, আপনারা কি খেয়ে আসছেন, না খেয়ে আসছেন, একটু চা খান। পরে আপনার সমস্যা শুনবো। তার অর্থ কি? দুইটা কিন্তু দুই বক্তব্য! খারাপ মানুষের বন্ধু আমরা হতে পারবো না।’
‘যারা খারাপ তাদের ভালো করার দায়িত্ব কিন্তু আপনার-আমার। তারা জন্মগতভাবে খারাপ ছিলনা। আমরা যারা সমাজের জন্য ভালো কিছু চিন্তা করি, তাদের উচিত হবে, খারাপ লোকদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।’ – বলেন পুলিশ কর্মকর্তা রুহুল আমিন।
মঙ্গলবার দুপুরে কমার্স কলেজ রোড়ের পাশে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
