
বাদল রায় স্বাধীন : সন্দ্বীপের মাঈটভাঙ্গা ইউনিয়নের সন্তান নরেশ্বর দাস। চট্টগ্রাম নগরের বটতলী রেলস্টেশনের ফ্লোরে গত দুই বছর ধরেই পথশিশুদের নিয়ে পরিচালনা করছেন একটি ই-স্কুল বা ইলেকট্রনিক স্কুল। ‘আর করবো না ভিক্ষাবৃত্তি ই-স্কুলই আসল শক্তি’ ও ’ভিক্ষাবৃত্তি পরিহার করি ই-স্কুলে জীবন গড়ি’ স্লোগানে নাম-পরিচয়হীন ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত শিশু, যারা রেলস্টেশনসহ রাস্তার পাশে ঘুমায় এমন শিশুরা প্রতি সপ্তাহে দুইদিন (শুক্র ও শনিবার) এই স্কুলে পড়াশুনা করছে। এসব শিশুরা স্টেশন ফ্লোরে বসে আনন্দময় পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার পাঠ নেয় নরেশ্বরের কাছ থেকে।
ই-স্কুল বিষয়ে জানতে চাইলে নরেশ্বর বলেন, ই-স্কুল নামকরণ করার কারণ এটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিনোদন প্রদান করা হয়। শিক্ষাদানের পাশাপাশি এসব শিশুদের বিভিন্ন সময়ে পোশাক, স্কুলসামগ্রী, ঔষধ সাপোর্টসহ প্রতিনিয়ত নাশতা দেওয়া হয়। অনেকটা শিক্ষাগ্রহণের বিপরীতে খাবার প্রদানের মতো। শুরুতেই খাবার না পেলে তারা স্কুলে আসতো না। এখন খাবার না পেলেও স্কুল কামাই করে না শিশুরা। তারা বুঝতে পেরেছে বেঁচে থাকার জন্য সত্যি শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তাই অনেক অভিভাবক যে ছেলেকে ভিক্ষাবৃত্তিতে কাজে লাগাতো তারা এখন শুক্র ও শনিবার এলে তাগাদা দেয় স্কুলে গিয়ে পড়ার জন্য। স্কুলে ক্লাস করতে এসে অনেকে আবার ভিক্ষাবৃত্তিও ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একজনকে শুরুতে ক্লাসপ্রতি ৫০০ টাকায় নিয়োগ দিয়েছিলাম। উনার চাকরি হওয়াতে কিছুদিন সমস্যায় পড়েছিলাম। মাঝে অর্থ সাপোর্ট দিয়েছিলেন সন্দ্বীপের দুই কৃতি সন্তান মেজর শরফুদ্দিন পাটোয়ারী ও কর্নেল দিদারুল আলম। এছাড়া আরো অনেক আমার স্কুলে সময় দিয়েছেন।
প্রায় ৪০ জনের মতো শিশু সেখানে পড়তে আসে। তাদের কারো গায়ের জামা ছেড়া, কারো গায়ে জামা নেই, কেউ আবার প্রতিবন্ধি। এদের অনেকে এখন ভিক্ষাবৃত্তি , অনৈতিক সব কাজ ফেলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে পড়ালেখায়।
নরেশ্বর বন্দরের একটি চাকরির সুবাদে সেখান থেকে বেতনের টাকা বাঁচিয়ে এই মহতী কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করছেন। অনেক বাধাবিঘ্ন ও দৈন্যতা থাকলেও এটি চালিয়ে যেতে দূঢ় মনোবল প্রকাশ করে বললেন যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক এই বিদ্যালয় আমি চালিয়ে যাবো । তার দৃঢ় মনোবল দেখে বলতে ইচ্ছে করলো নরেশ্বর দা মানুষের ঈশ্বর নরেশ্বর না হতে পারলেও ছিন্ন মুল শিশুদের ঈশ্বর হয়ে বেঁচে থাকুন অনন্তকাল।
একুশে/জেএইচএস
