চট্টগ্রাম: দিয়াজ ইরফানের মরদেহের ময়নাতদন্তের আগে চমেকের অধ্যক্ষ সেলিম মো. জাহাঙ্গীর কোন নেতার সাথে দেখা করে ভোর পাঁচটায় মর্গে এসেছিলেন তা জানতে চেয়েছেন তার বড় বোন জোবায়দা ছরওয়ার নিপা।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর কোন নেতার বাসা থেকে ২১ নভেম্বর ভোর ৫টায় বের হয়েছিলেন?
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের মোবাইলের কল লিস্ট খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফানের বড় বোন জোবায়দা ছরওয়ার নিপা। দিয়াজের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
দিয়াজের ‘হত্যাকারীদের’ বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মাননবন্ধনে দিয়াজের বড় বোন এডভোকেট জোবায়দা ছরওয়ার নিপা বলেন, দিয়াজকে হত্যার পর হত্যাকারী চবি ছাত্রলীগের একটি অংশ। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু এর আগে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দিয়াজের হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মোবাইল নম্বরের কল লিস্ট খতিয়ে দেখলেই এ বিষয়টি পরিস্কার হবে।
তিনি আরও বলেন, ওই দিন ভোর পাঁচটায় সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কোন নেতার বাসা থেকে এসেছিলেন তা আমরা জানতে চাই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যেসব ডাক্তারের স্বাক্ষর রয়েছে তারা প্রতিবেদন লিখার সময় ছিলেন না। প্রতিবেদন তৈরীর সময় অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তাদের বের করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তিনিই ময়নাতদন্ত প্রভাবিত করে প্রতিবেদন পাল্টে দিয়েছেন।
নিপা আরও বলেন, ‘একজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়াজের মৃত্যুর দিন একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তাহলে কি ওই রিপোর্ট পুরোটাই মিথ্যা? ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট লিখা আছে, দিয়াজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। সেগুলো কেন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আসল না?’
তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে। হত্যাকান্ডের অন্যতম আলামত বারান্দার উন্মুক্ত দরজাটি। অথচ পুলিশ আমাদের সামনেই সেটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় আমরা জানতে চাইলে পুলিশ বলেছিল, কেউ নিচ থেকে বারান্দার দরজা দিয়ে প্রবেশ করে আলামত নষ্ট করতে পারে, তাই তারা দরজাটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাই।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাবিহা মুসা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর জাফর আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় পেশাজীবী লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুনিরুল ইসলাম, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা শওকত বাঙালি, যুবলীগের ২ নম্বর জালালাবাদ শাখার যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা ওসমান। দিয়াজ ইরফানের ছোট বোন সায়েদা ছরওয়ার নিশা, ছোট ভাই মিরাজ ইরফান, চবি ছাত্রলীগের এ সময় উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ মামুন, মোহাম্মদ নাজিম, এনামুল হাসান অভি, শোভন দাশ প্রমুখ।
