শঙ্খনদীর মৃত্তিকাসম্পদে প্রভাবশালীদের থাবা, সৌন্দর্যের ‘অপমৃত্যু’!

জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা : অপরূপ সৌন্দর্যের অহংকার শঙ্খনদীর মৃত্তিকাসম্পদে পড়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ’কুনজর’, ‘অসুন্দর’ থাবা। শঙ্খনদীর মৃত্তিকাসম্পদ ইট-বালু নিয়ে চলছে হরিলুট। প্রতিদিন ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শঙ্খনদী। ইটভাটা মালিক ও একটি লোভীচক্র দেদারসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে নদীটির বালু-মাটি। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রেজার।

তাদের আগ্রাসী থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না ফসলি জমির নরম কাদামাটিও। উপজেলার প্রায় স্পট থেকে প্রতিনিয়ত সৌন্দর্যের অপমৃত্যু ঘটিয়ে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অপকর্মটি সম্পাদন হচ্ছে।

এদিকে, অপরিকল্পিতভাবে নদীর মাটি খননের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শঙ্খ নদীর পাশ দিয়ে স্থাপিত বেড়িবাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এক সময় এ নদীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে আশপাশের এলাকার লোকজন ছুটে এলেও নদীটি এখন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীর সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে তার নান্দনিকতা হারিয়ে ফেলেছে। শঙ্খ পাড় দিয়ে এখন আর মানুষ চলাচল করতে পারে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বটতলী পূর্বের বিল, দক্ষিণ বারশতের বিল ও জুঁইদন্ডী মাঝেরঘাট এলাকা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বটতলী পরীর বিলের দুই ইটভাটায়। বরুমচড়া, চাতরী, বারশত, রায়পুর, হাইলধর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। হাইলধর ইউনিয়ন অংশের শঙ্খ থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন হতেও দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসলি জমি থেকেও নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে বলেও তাদের দাবি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহমদ বলেন, আমরা শুধু বসতঘর ভরাট, স্কুল, মাদ্রাসার জন্য উপজেলায় কিছু জায়গায় মাটি তোলার অনুমতি দিয়েছি। এরবাইরে যেখানে অবৈধ মাটি কাটার খবর পাচ্ছি সেখানে গিয়ে আমরা বন্ধ করছি এবং ইতিমধ্যে অনেককে ভ্রাম্যমাণ অভিযানে জরিমানাসহ বিভিন্ন খননযন্ত্র জব্দ করছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

একুশে/জেএইচ/এটি