
চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৮ অনুষদের ডিন নির্বাচনে হারের পর এবার চবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চবির ৮ অনুষদের ডিন নির্বাচনে একটি অনুষদেও জয়ী হতে পারেনি বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমর্থিত সাদা দল ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
জানা যায়, শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী গতকাল রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার শেষ তারিখ। এতে হলুদ দল থেকে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমর্থিত সাদা দল ও সাদা দল থেকে বেরিয়ে আসা বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম থেকে কেউই মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় অষ্টম বারের মতো বিজয়ের অপেক্ষায় আছে হলুদ দল। আগামী বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।
এদিকে ডিন নির্বাচনে হারের পর শিক্ষক সমিতি নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের ভরাডুবি হবে জেনেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন হলুদ দলের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ।
বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের নির্বাচন বর্জনের কারণকে দেশে গণতন্ত্রহীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের পরিবর্তে ‘ভোটার’ নিয়োগের নিরব প্রতিবাদ বলে জানান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক ও বন ও পরিবেশ বিদ্যা ইনিস্টিটিউটের প্রফেসর ড. আমিন।
তিনি বলেন, আমরা সব সময় সব নির্বাচন করে আসছি। এবার আমরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। সারাদেশে ভোটাধিকারের অবস্থা আপনারা জানেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও মনে হচ্ছে না শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে দলীয় বিবেচনায় ভোটার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীদের ভোট দিতে ইতস্ততবোধ করছে। এভাবে তো একটা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। এজন্য এটা একটা প্রতিবাদ, আগামীতে যেন মেধা ও মননের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।
এ দিকে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিষয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শামীম উদ্দিন খান একুশে পত্রিকাকে বলেন, প্রশাসনের কোন পদেই সাদা দলের শিক্ষকদের মূ্ল্যায়ন করা হয় না। সেই দিক বিবেচনায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া আর না নেওয়া সমান কথা। নির্বাচিত হলেও তাকে কোন কাজে মূল্যায়ন করা হবে না। সেজন্যই আমরা শিক্ষক সমিতি নির্বাচন থেকে সরে এসেছি।
তিনি বলেন, গত নির্বাচনে শিক্ষক সমিতিতে সাদা দল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের সভাপতি ড. আতিয়ার রহমান সদস্য হিসেবে ছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের একটি অনুষ্ঠানে সবাইকে মূল্যায়ন করা হলেও তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু বর্তমানে তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সভা, সমাবর্তন, অনুষ্ঠান নিয়ে গঠিত কমিটি, হল প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক নিয়োগে সাদা দলের শিক্ষকদের সাথে করা হচ্ছে বৈষম্য।
হলুদ দলের প্রার্থী যারাঃ
হলুদ দল থেকে সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর মো. এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর মো. তৌহিদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ পদে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক শাহ নেওয়াজ মাহমুদ, সদস্য পদে বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর খালেদ মিসবাহুজ্জামান, বাংলা বিভাগের শফিউল আযম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আদনান মান্নান, আইন বিভাগের মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন, ইনিস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের সহকারী অধ্যাপক জুয়েল দাশ ও ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রিনক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী তানভীর আহাম্মদ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী-বামপন্থী শিক্ষক সমর্থিত হলুদ দল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমর্থিত সাদা দলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। শুধু ২০১৪ সালের সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন বয়কট করে অংশ নেয়নি সাদা দল। এছাড়া গত ৩৩ বছরে সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছিল দলটি।
