বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬

রাঙামাটিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শক্তিমান চাকমা হত্যার আসামি নিহত

প্রকাশিতঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে অর্পন চাকমা নামে একজন নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে জেলার সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অর্পন চাকমা নানিয়ারচরের উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি।

নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার ভোরে রাঙ্গামাটি জোনের আওতাধীন শুভলং ক্যাম্পের একটি নিয়মিত টহল দল মাইসভাঙ্গা এলাকায় অবতরণ করলে পাহাড়ের উপর থেকে ওতঁপেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অতি দ্রুত অবস্থান নিয়ে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করতে থাকে। বিষয়টি টহল কমান্ডার শুভলং ক্যাম্পকে অবহিত করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পীড বোটে শুভলং ক্যাম্প থেকে আরও একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

প্রায় ১৫-২০ মিনিট গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা পিছু হাটতে বাধ্য হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সম্পূর্ণ এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তল্লাশী শুরু করে। এসময় ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের অর্পন চাকমার মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় এবং একটি ব্যাগে রক্ষিত মোবাইল ফোন, চাঁদার রশিদ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল, একটি দেশীয় অস্ত্র, বেশ কিছু পিস্তলের গুলি, এলজির কার্তুজ এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, নিহত অর্পন চাকমা ওরফে বাবুধন চাকমা এবং তার সহযোগীরা বিগত তিন থেকে চার মাস ধরে বন্ধুকভাঙ্গার বানাসছড়ি এলাকায় নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগনের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করত। সে ২০১৮ সালের ৩ মে নানিয়ারচরে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম প্রধান আসামি।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রণি বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুমন চাকমা নামে ইউপিডিএফের (মূল) এককর্মী নিহত হয়।