চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর শুক্রবারও উত্তেজনা রয়েছে। দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
জানা গেছে, সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের মধ্যে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে। আজ দুপুর ১২টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এতে একজন আহত হন।
এদিকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বেলা দুইটার দিকে শাহ আমানত ও শাহজালাল ছাত্রাবাসে রেইড শুরু করে পুলিশ। শাহ আমানত ছাত্রাবাস সাধারণ সম্পাদকের নিয়ন্ত্রণে। আর শাহজালাল ছাত্রাবাস নিয়ন্ত্রণ করেন সভাপতি।
সভাপতি পক্ষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষ সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী রাত সাড়ে ৮টার শাটল ট্রেনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সভাপতি আলমগীর টিপুর অনুসারী ইকবাল হোসেনের সাথে সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের অনুসারী তৌহিদুল ইসলামের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশন চত্ত্বরে এসে পৌঁছালে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এক পর্যায়ে তা শাহ জালাল হল ও শাহ আমানত হলে ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় সভাপতি পক্ষের অনুসারীরা শাহ জালাল হলে এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়ে পরস্পরের প্রতি ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী চলা এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হন।
এদিকে শুক্রবার সকালে সভাপতি পক্ষের অনুসারী ফাহিম নাস্তা করতে গেলে তাকে মারধর করেন সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মীরা। এতে আবারো বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বেলা ১২ টার দিকে আবারো সংঘর্ষে জড়ান তারা। এসময় পুলিশ এসে উভয় পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া দিয়ে দু’পক্ষকেই হলে পাঠিয়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ঝমেলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
