বিদ্রোহী প্রার্থী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের ডাকে পড়বে না সাড়া!

 

চট্টগ্রাম : আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র  প্রার্থীদের থামাতে সিসিসির প্রধান নির্বাচন সমন্বকারী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আহ্বানে খুব একটা সাড়া মিলছে না। স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বেশিরভাগই শেষপর্যন্ত লড়ে যাবার সিদ্ধান্তে অনড়।

এ কারণে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় নগরের টিআইসিতে অনুষ্ঠেয় এ সংক্রান্ত সমঝোতা বৈঠকে যেতে আগ্রহী নন অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী । ৩৩ নং ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড এর স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লবসহ অন্তত চারজন কাউন্সিলর প্রার্থী আজকের বৈঠক এড়াতে ওমরা পালনের নামে দেশ ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

মুরুব্বি (মোশাররফ) ডেকেছেন, তাই মুখরক্ষার জন্য বৈঠকে কেউ কেউ গেলেও নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটার সম্ভাবনা খুব একটা নেই বলে কয়েকজন প্রার্থীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে।

৩১ নং আলকরন ওয়ার্ড থেকে চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম এ প্রসঙ্গে একুশে পত্রিকাকে বলেন, নেতারা ডেকেছেন, অবশ্যই  যাবো। গিয়েই প্রথমত দলীয় সমর্থন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে নেতাদের কাছে তার অবসান চাইব। আশা করি বিতর্ক দূর করে জনসম্পৃক্ত, জনভিত্তির প্রার্থীদেরকেই দল নির্বাচন করাবে, নতুবা উন্মুক্ত করে দিয়ে দলীয় কর্মীদের বিশৃঙখল ও বিভাজনের জায়গা থেকে উদ্ধারের পাশাপাশি নির্বাচনে মুখরতা তৈরিতে উদ্যোগী হবেন নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মান্নান-মহিউদ্দিন কমিটির (১৯৯৮) সদস্য  তারেক সোলায়মান সেলিম বলেন, আমি ‘৯৪ থেকে ২০০৫, পরপর তিনবার নির্বাচন করে প্রতিবারই জিতেছি। ২০১০ সালে সবার অনুরোধে আলকরন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনে জিতল বিএনপি প্রার্থী। ২০১৫ সালে নির্বাচন করে ৫ বছর পর হারানো কাউন্সিলর পদটি আমি পুনরুদ্ধার করি ।

জনকল্যাণ, জনসেবাকে একমাত্র ব্রত করে আলকরনের মাটি-মানুষের সাথে হ্ন্রদমাজারের সম্পর্ক আমার। তাদের চিন্তা, জনআকাঙক্ষার সাথে চমৎকার সেটআপ, মেকআপ। এমন এক যুগপৎ শক্ত-শান্ত ভিত্তির মাঝেই দলীয় সমর্থনের নামে হুট করে অন্য একজনকে হাজির করার সিদ্ধান্ত আলকরনের মানুষ কখনো মেনে নেবেন না বলে জানান ছাত্রলীগের এ  প্রাক্তন নেতা।

এদিকে ক’দিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে একুশে পত্রিকা টিমের সাথে কথা হয় ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড এর এখনকার কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সাথে। তিনি তখন বলেছিলেন, দেখুন, গতবার সিডিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষকে হারিয়ে আমি কাউন্সিলর হয়েছিলাম। গত ৫ বছরে এলাকার মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে প্রমাণ করেছি শুধু আমি কাউন্সিলরই নই, আমি তাদের বন্ধু-স্বজন, আত্মার আত্মীয়। কাজেই এখানে তারা অন্য কাউকে কখনো মানবে না।

কমার্স কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি, দু:সময়ে নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, এরপর মহানগর যুবলীগ সদস্য-এসব রাজনৈতিক অভিধার বাইরেও ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার মানুষের সাথে আমার অনন্য এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে। আর এটাই আমার নির্বাচনে বড় পুঁজি।-বলেন হাসান মুরাদ বিপ্লব।