
আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর মনোনয়ন ফরম জমাদানকালে আ জ ম নাছিরের উপস্থিতি।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আওয়ামী লীগের সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব করা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে। ওঠেছে ভয়াবহ আচরণবিধি লংঘনেরও অভিযোগ।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ এর ২২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। উক্তরূপ ব্যক্তি তার ভোট প্রদানের জন্য শুধু ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।
গতকাল রোববার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ড. অনুপম সেনকে পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সদস্য সচিব পদে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলকে সরিয়ে স্থান দেয়া হয়েছে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে।
কো-চেয়ারম্যান হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহ সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলার সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ সালাম। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, মেয়র, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা স্থানীয় নির্বাচনের কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় বারণ করা হয়েছে, সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
তিনি আরো বলেন, মেয়র, সংসদ সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কেউ ভোটের কাজে সংযুক্ত হতে পারবেন না। এখন উনারা যদি ভোটের মাঠে নামেন সেটা আচরণ বিধির ভয়াবহ লঙ্ঘন হবে। নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইন মানতে বাধ্য করা।
