
ঢাকা: মাস্ক নিয়ে কোন মহল ব্যবসা করছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং তদারকি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত মাস্ক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।
আদালত বলেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করা দরকার, কেউ যাতে বেশি দাম না নিতে পারে এবং মাস্ক মজুত করতে না পারেন।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কিত প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে আদালত আজ এক পর্যবেক্ষনে এসব কথা বলেন।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে আজ শুনানি হয়।
ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল হাসান এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
শুনানি শেষে আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
আদালত বলেছেন, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক নির্দেশনাগুলো দিতে হবে।
এর আগে ৫ মার্চ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টরা কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চান হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই তথ্য জানানোর জন্য বলা হয়েছিল।
আদালত তিনটি মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রথমত, স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর, বিশেষ করে বিমানবন্দরে যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আসছেন, তখন তাঁদের কি ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাঁরা পরীক্ষা করছেন, তাঁরা প্রশিক্ষিত কি না এবং যে যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেগুলোর সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা জানাতে বলেছেন।
দ্বিতীয়ত, সারা বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় করোনাভাইরাসের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় এখন পর্যন্ত প্রাক্প্রস্তুতিতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আদালত সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সব বেসরকারি হাসপাতালেও করোনাভাইরাসের জন্য প্রাকপ্রস্তুতিমূলক সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।
তৃতীয়ত, প্রতিটি হাসপাতালে বা বন্দরে যেখানে শনাক্তের জন্য করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন হবে, সেখানে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে কি না, যদি না থাকে, জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করার জন্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত।
উল্লেখ্য, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস বিশ্বের ১০০ দেশে এখন ছড়িয়ে পড়েছে।বাংলাদেশেও তিন জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানা গেছে।
