
চবি প্রতিনিধি : রাষ্ট্রীয়ভাবে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও মাসব্যাপী নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে বছরব্যাপী শতাধিক কর্মসূচির কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাছাড়া মার্চ মাসব্যাপী কর্মসূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নগরীর এক রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে মুজিব বর্ষের মার্চ মাসব্যাপী কর্মসূচি তুলে ধরেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান হিসেবে সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে চালিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মুজিববর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া লিখিত সূচিতে উল্লেখ করা হয়, মুজিববর্ষে গৃহীত কর্মসূচি হিসেবে ১১ মার্চ সাংস্কৃতিক সংগঠন অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে।
জানা যায়, ১১ মার্চ সাংস্কৃতিক সংগঠন অঙ্গনের ত্রিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অঙ্গনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যুক্ত করার ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী যেনতেনভাবে অনুষ্ঠানগুলোকে মুজিববর্ষের নামে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। মুজিববর্ষের নাম ব্যাবহার করে পায়তারা চলছে অর্থ লোপাটের। তাছাড়া মুজিববর্ষের লোগো ব্যাবহার করা ব্যাগ ও টিস্যু পেপার তৈরি করায় ইতিমধ্যে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এমন অবস্থায় মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের নামে সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হলে তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ইতোমধ্যেই মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহার ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে নানা দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কিছু করতে হলে দুস্থ, গৃহহীন ও অসহায়দের জন্য কল্যাণকর কিছু করার পরামর্শ আছে সরকারের পক্ষ থেকে। এ অবস্থায় সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হিসেবে চালিয়ে দেয়ার উদ্যোগকে ভাল চোখে দেখছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী শিক্ষক সাংস্কৃতিক সংগঠন অঙ্গনের পৃষ্ঠপোষক। তিনিই মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের নামে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য প্রশাসনের ভেতরে প্রভাবিত করেছেন।
এদিকে অঙ্গনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অঙ্গন বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সাংস্কৃতিক সংগঠন, যারা সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেয়ে থাকে। যেহেতু মুজিববর্ষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সে হিসেবে এতে মন্ত্রণালয়ের অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠন হিসেবে অঙ্গনকে যুক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যুক্ত করতে সংগঠন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় ঘোষিত কর্মসূচিতে তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পহেলা মার্চ থেকে এই মাসে যত অনুষ্ঠান হবে সব মুজিববর্ষকে উৎসর্গ করা হবে। এটা নিয়ে তো এত কথা বলার কারণ নেই। আমাকে তো বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। তেমনি অঙ্গনের অনুষ্ঠানেও ছেলে-মেয়েরা দাওয়াত দিয়েছে, যাবো। গিয়ে দুই মিনিট কথা বলে চলে আসবো।’
অঙ্গনের অনুষ্ঠানকে মুজিববর্ষের সূচিতে যুক্ত করা ও এই অনুষ্ঠানের অর্থায়ন কারা করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য আরও বলেন, ‘তাদের প্রোগ্রামের অর্থায়ন তারাই করবে। আমরা কেবল গিয়ে বক্তব্য দিয়ে আসবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানসূচিতে অঙ্গনের উৎসব যুক্ত করা হয়েছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা অনুষ্ঠান সূচিতে সেটা যুক্ত করিনি। আমরা শুধু মুখে বলেছি অনুষ্ঠানগুলো মুজিববর্ষকে উৎসর্গ করে করা হবে।’
যদিও পহেলা মার্চে গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া লিখিত সূচিতে অঙ্গনের অনুষ্ঠানটির কথা উল্লেখ ছিলো।
