চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের সভাপতি কামরুন মালেক বলেছেন, ‘ঋণ নিতে গেলে নারী উদ্যোক্তাদের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। অথচ দেশের বড় ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে ‘খেয়ে ফেলছে’ পুরুষরা।
সোমবার সকালে নগরের হোটেল আগ্রাবাদে পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের সুইচ এশিয়া-জুট ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের ব্যবস্থাপনায় ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের ১৩ টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।
পাটপণ্য মেলার আয়োজকদের সাধুবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের সভাপতি কামরুন মালেক বলেন, ‘এই ধরনের আয়োজন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। এই পাটকে একসময় সোনালী আঁশ বলা হত। তবে পাটকে আমরা কিছুটা ভুলে যেতে বসেছিলাম।’
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদেরকে একেবারে তৃণমূল থেকে তুলে নিয়ে আসছে উইমেন চেম্বার। আমাদের দেশে ব্যবসা করার জন্য নারীদের অনেক সমস্যা। বিশেষ করে চট্টগ্রামে। এখানকার নারীরা কিন্তু অনেক কনজারভেটিভ। আমরা যে ব্যবসার সুবিধা পাচ্ছি, সেটা ভাগ্যের ব্যাপার। পরিবার থেকে সাপোর্ট পাচ্ছি। পরিবারের সাপোর্ট না পেলে আমি আজকে এখানে এসে দাঁড়াতে পারতাম না। কিন্তু যারা সুবিধাবঞ্চিত নারী, তাদের অনেকেই কিন্তু পরিবারের সাপোর্ট পায় না। এটা আমরা সরেজমিনে দেখেছি।’
‘অনেক নারী উদ্যোক্তাকে ব্যাংকের লোন পেতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে, নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সেই জায়গায় পরিবর্তনের জন্য আমরা কাজ করি। আমরা নিজেরাই অনেক সময় গ্যারান্টার হয়ে, উদ্যোক্তাদের লোনের ব্যবস্থা করি।’
কামরুন মালেক বলেন, ‘যতই বলুন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু যখন একটা মহিলা, পাঁচ লাখ, দশ লাখ টাকা চায়, তখন কিন্তু তাকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। অথচ কোনো মহিলা এ পর্যন্ত ঋণখেলাপি হয়নি, হলে সেটা ১ শতাংশ। যত বড় বড় ঋণখেলাপী সব পুরুষেরা। বড় বড় ব্যাংকগুলো সব খেয়ে ফেলছে পুরুষেরা। সেখানে মহিলার সংখ্যা ১ শতাংশ আছে কিনা আমি জানি না।’
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় স্ত্রী লোনের জন্য আবেদন করে পেয়ে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় স্বামী-শ্বশুর ব্যাংকে গিয়ে বলেছেন, লোন দেবেন না। এরকম ঘটনাও আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জোয়ার্দ্দার সাহেব আমাকে এই ঘটনাটা বলেছেন। যদিওবা আমরা বলি প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, আমরা নারীদের রাজত্বে আছি। কিন্তু অনেক সময় লাগবে আমাদের এসব কাটিয়ে উঠতে।’
পাটপণ্য নিয়ে কামরুন মালেক বলেন, ‘বিদেশে যখন আমি যাই, বিদেশী বন্ধুদের জন্য পাটের নানা পণ্য নিয়ে যাই। তাদের তো কোনকিছুর অভাব নেই। কিন্তু পাটের এসব পণ্য পেয়ে তারা খুব খুশি হয়।’
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ফাইট ফর উইমেন রাইটস এর সভাপতি অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেন, ‘পাট শিল্পের পুনর্জাগরণের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বিশেষ প্রয়োজন। রাষ্ট্রের আন্তরিকতা ছাড়া, পরিকল্পনা ছাড়া পাটের যে সম্ভাবনা রয়েছে, পাটের যে বাজার দখল করার বিষয়টি রয়েছে, সেটি সম্ভব নয়। আমি সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানাব, নারী অধিকারের প্রশ্ন আসলে, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি খুব প্রয়োজন। নারীর নিরাপত্তার জন্য, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নটা খুব জরুরি।’
সুইচ এশিয়া ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের অধীনে গঠিত সুইচ টু জুট কনসোটিয়ামের সভাপতি সান্তনা মমতাজ বলেন, ‘বাংলাদেশের পাট আমাদের অহংকার, আর্শীবাদ। পাট আমাদের জন্য অর্থকরী ফসল। এর মাঝে আমরা পাটকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আবারো সোনালী আশ, সোনালী দিন ফিরে এসেছে।’
কেয়ার বাংলাদেশের সুইচ এশিয়া-জুট ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের টেকনিক্যাল ম্যানেজার (লানিং অ্যান্ড এডভোকেসী) আরশাদ হোসেন সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় ও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রজেক্টের টিম লিডার শেখর ভট্টাচার্য্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের ডিরেক্টর আবিদা মোস্তফা।
নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন- রংপুর থেকে আসা মোছাম্মৎ আছিরন নেছা।
