
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে জনবান্ধব নেতা হিসেবে চিনেন অনেকেই। কী দিন, কী রাত – সবসময় জনগণের জন্য তার দরজা খোলা, হাজারও ব্যস্ততা-কর্মের চাপ, মানসিক কষ্টের মাঝেও হাসিমুখে সাধারণ মানুষকে তিনি গ্রহণ করেন, ধৈর্য ধরে তাদের কথা শোনেন, সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়ান – এমন প্রতিষ্ঠিত সত্য ছাপিয়ে ৭০ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি আ জ ম নাছির উদ্দীনই মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে গেইটে তালা লাগিয়ে সেই চাবি রেখে দেন নিজের পকেটে। ফলে অসংখ্য দর্শনার্থী মেয়রের সাথে দেখা করতে না পেরে ফিরে গেছেন।
মেয়রের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যবিরোধী ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে খোদ মেয়রের ইচ্ছাতেই। এ কারণে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত টাইগারপাস্থ মেয়রের অস্থায়ী কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার মূল গেইট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। মূলত ওই গেইট পেরিয়েই যেতে হয় মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ, মেয়রের সরকারি পিএস, ব্যক্তিগত পিএসসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কক্ষে। ফলে মেয়র ছাড়া অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাদের পূর্ব নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল তাদেরকেও কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে বেগ পেতে হয়।
বুধবার পৌনে ৫টার দিকে এক গণমাধ্যমকর্মী ও সাবেক কাউন্সিলর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী দেখা করতে গেলে গেইটের কাছে আটকে যান তারা। এসময় কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ভেতর থেকে গেইট (গ্লাসবিশিষ্ট বড় দুই দরজা) বন্ধ, ভেতরে যাওয়া যাবে না। তালাবদ্ধ গেইটের চাবি মেয়রের কাছে জানিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তারা।
কারণ কী? ‘মানুষ বেশি ঢুকছে, মেয়রের কাজে বিঘ্ন ঘটছে, তাই মেয়র রাগ করে গেইটে তালা দিয়ে চাবি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন’- জানান নিরাপত্তাকর্মীরা।
এসময় ওই গণমাধ্যমকর্মী মেয়রের পিএস রায়হান ইউসুফকে ফোন দিলে প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি এসে গেইটের চাবি খুলে কেবল গণমাধ্যমকর্মী ও সাবেক কাউন্সিলরকে প্রবেশের সুযোগ দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়র নাছিরের অবস্থানকালীন সময় (সাড়ে ৫টা) পর্যন্ত পরবর্তী ভিজিটিরদের প্রবেশাধিকারেও ছিল কড়াকড়ি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মেয়রের পিএস রায়হান ইউসুফ একুশে পত্রিকাকে বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের কেউ কেউ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে যাকে তাকে ঢোকার সুযোগ করে দিচ্ছিল, এতে মেয়র মহোদয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল। তাই তিনি (মেয়র) অসহ্য হয়ে কিছুক্ষণের জন্য চাবিটা নিজের কাছে নিয়ে রেখেছিলেন।
মেয়র কিংবা অন্য কর্মকর্তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েও ঢুকতে না পারা কয়েকজন এ নিয়ে আক্ষেপ করেন, বলেন- ‘মেযর নাছির চট্টগ্রামের ৭০ লক্ষ মানুষের অভিভাবক, প্রতিনিধি। আপাদমস্তক জনবান্ধব নেতা হিসেবে তার পরিচয়-খ্যাতি। আজকের দিনে এসে তিনি হঠাৎ ২০-৩০ জন মানুষের চাপ সইতে পারছেন না, তাদের উপস্থিতিকে কাজের প্রতিবন্ধক মনে করছেন- ব্যাপারটা অন্তত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের চরিত্রের সঙ্গে যায় না।
