খালেদা জিয়ার মুক্তি: যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল


ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দু’বছর দু’মাস কারাবাস শেষে মুক্তি পেয়েছেন।

আজ (বুধবার) দুপুরে কারা কর্তৃপক্ষের মুক্তির ছাড়পত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে অবস্থানরত বেগম জিয়ার কাছে পৌঁছানোর পর বিকেল সোয়া চারটায় মুখে মাস্ক নিয়ে হাসপাতালের কেবিন ব্লক থেকে হুইল চেয়ারে চেপে বের হন খালেদা জিয়া। তারপর তাঁকে গাড়িতে করে তার গুলশানের বাসায় নিয়ে আসা হয়।

প্রিজন কেবিন থেকে খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করেন পরিবারের সদস্য- তাঁর ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিনা ইসলাম ও ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাস্ক ও গ্লাভস পরে কেবিন ব্লকে উপস্থিত হন।

বেগম জিয়ার বেরিয়ে আসার পরপরই হাসপাতালের ভেতরেই তাঁর গাড়িকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রচণ্ড ভিড় লেগে যায়। বেগম জিয়ার গাড়ি বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পর নেতা–কর্মীদের কেউ কেউ মোটরসাইকেলে এবং একটি বড় অংশ মানুষ হেঁটে অনুসরণ করতে থাকে। নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করে ভীড় সামাল দেয়।

বেগম জিয়ার মুক্তির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

বেগম জিয়ার মুক্তির শর্ত প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারবেন না।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোকষ্টের কথা উল্লেখ করে জানান, ১৫ আগস্ট যেদিন তার পিতা-মাতা ভাইদের সপরিবারে হত্যা করা হয় সেদিন বেগম জিয়া তার জন্মদিন পালন করতেন। এটাও ভুলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন কেবল মানবিকতার দৃষ্টিতে।

বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায় খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার শর্তে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করেছেন। এর মানে এই নয়, তিনি দণ্ড থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন। তার অন্য মামলাগুলিও চলবে।

দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গতকাল আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক আসুস্থতার কথা বিবেচনায় নিয়ে এবং মানবিক কারণে সদয় হয়ে দু’টি শর্তে তার দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক খন্দকার মাহবুব হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায় আনুসরণ করে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।