পাবনায় করোনা-আতঙ্কে ফাঁকা সদর হাসপাতাল, শহরে করোনা সচেতনতা

পাবনা প্রতিনিধি : করোনা-আতঙ্কে ফাঁকা হয়ে পড়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা সদর হাসপাতাল। কোন রোগী নেই, নেই রোগীর ভিড়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এই হাসপাতাল ছিল রোগী, রোগীর স্বজন ও নানা ধরনের লোকজনে ভরপুর।

প্রতিদিন হাজার হাজর মানুষ চিকিৎসা নিতে আসতো হাসপাতালে। খালি থাকতো না কোনো বেড। অনেক রোগী বেড না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতেন।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে হাসপাতালের বেডগুলো রোগীশূন্য। হাসপাতালের গেটে নেই যানবাহন, নেই অ্যাম্বুলেন্স, মানুষের জটলা। হাতেগোনা কয়েকজন রোগী আছে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে।

অ্যাম্বুলেন্স-চালক কালাম (৩৬) বলেন, প্রতিদিন রোগীর জন্য চলাফেরা করা যেত না হাসপাতালে। এখন একদম বিপরীতমুখী হাসপাতালের চিত্র। রোগী না থাকায় আমাদের পেটও চলে না।

অন্যদিকে, বুধবার (২৫ মার্চ) শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাবনা জেলা প্রসাশন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।

এসব কর্মসূচিতে পাবনা জেলা প্রসাশক কবীর মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম পিপিএম,বিবিএম, জেলা প্রসাশন ও জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিতরণ করেছে মাস্ক ও লিফলেট। সেচ্ছাসবী সংগঠন নব-দিগন্ত পরিবার (নদিপ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ-পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব সোহেল রানা একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করছি, বলছি কী করে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সংস্কৃতিকর্মী ও মঞ্চ উপস্থাপিকা সানজিদা হাসান বলেন, করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত না হওয়ায় মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে। আমরা আতঙ্কগ্রস্ত মানুষদের বুঝিয়ে বলছি সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, কীভাবে হাত ধুতে হবে ইত্যাদি। মানুষ যেন ভয়কে জয় করে করোনা মোকাবিলা করতে পারে সেই বিষয়গুলোই আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি।