
চট্টগ্রাম : করোনা রোগীদের সাথে বসবাস করতে চান। করতে চান পরম মমতায় চিকিৎসা। এ জন্য চট্টগ্রামে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ করতে চান আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।
এ লক্ষ্যে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষদের শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে একটি পোস্ট দেন ইউরোপে দীর্ঘদিন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করা এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। করোনার ভয়াবহতার মুখে ইতোমধ্যে ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে গড়ে উঠেছে একাধিক ফিল্ড হসপিটাল।
চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার ফিল্ড হাসপাতাল করতে চান জানিয়ে ওই পোস্টে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া জানান, ’মানবিক এই যুদ্ধে সৈনিক হতে ইচ্ছুক কারা? চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্যরাও আগ্রহী হলে কমেন্টস করুন। অবশ্যই টোটাল প্রোটেকশন থাকবে।’
তার এই পোস্টে সাড়া দেন ২৯১ জন লোক, যাদের বেশিরভাগই এই উদ্যোগের সারথী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
যখন করোনা-আতঙ্কে প্রিয়জন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন প্রিয়জন, চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন বেশিরভাগ চিকিৎসক, করোনায় মৃত্ ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; তখনই ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার করোনা-আক্রান্তদের মমতা দিয়ে আগলে রাখতে চাওয়া, সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করতে ফিল্ড হাসপাতাল গড়ার ইচ্ছাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী, অসীম সাহসী, দুর্দান্ত মানবিক ইচ্ছা বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি ও সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, সারাবিশ্বের জন্য এটি একটি কঠিন যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকেও হার মানিয়েছে করোনা-দুর্যোগ। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে লাশের মিছিল। ভয়ানক এক আতঙ্কে কাটছে মানবসভ্যতার বর্তমান সময়গুলো্। কেউ আক্রান্ত হয়ে গেলে তার অবস্থা আরও করুণ। ভাইরাসটি এতটাই ছোঁয়াছে যে, বাধ্য হয়ে চির কাছের স্বজনটিও তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, দূরে সরে যাচ্ছেন।
ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করছেন দেশের একদল চিকিৎসক। আমিও একজন চিকিৎসক, মানবতাবোধের মানুষ। আমি মনেপ্রাণে চাইছি, যথাযথ সুরক্ষায় থেকে চট্টগ্রামে একশ’ বেডের একটি ফিল্ড হাসপাতাল করে করোনা-পরীক্ষা, করোনা আক্রান্ত রোগীদের অবহেলা নয়, বরং মমতা দিয়ে সুস্থ করার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে।

আমার সাথে যারা এই মানবিক যুদ্ধে শামিল হবেন আমাদের প্রত্যেকের ঠিকানা হবে এই ফিল্ড হাসপাতাল। বাংলাদেশ করোনামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই ফিল্ড হাসপাতাল থেকে ফিরবো না।- বলেন দেশের নানা দুর্যোগে অতীতে স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত হওয়া সাতকানিয়ার এই কৃতী সন্তান।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার এই ইচ্ছার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জীবনবাজি রেখে করোনাঝুঁকিতে নগরবাসীর পাশে থাকার ঘোষণা দেওয়া চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
নগরের আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ কর্ডন করে একশ’ বেডের করোনা ফিল্ড হাসপাতাল করা যায় কিনা সে বিষয়ে ইতোমধ্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার কথা হয়েছে। মেয়র দু-একদিনের মধ্যে বসে এ ব্যাপারে কার্যকর কী পদক্ষেপ নেয়া যায় তা নিয়ে ভাবছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা-প্রতিষ্ঠান, একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, সমাজের বিত্তবানসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোক ইতোমধ্যে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার ইচ্ছার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান পারসোনালা প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্টসহ (পিপিই) সুরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদানে বিদ্যুত বড়ুয়াকে আশ্বস্ত করেছেন।
