৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ অনাদায়ী

Bd bankসরকারি ব্যাংকগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে অসমর্থ হওয়ায় ক্ষোভ-অসন্তোষ বাড়ছে ক্রমেই। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহল ব্যাংক ঋণ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতে ৫০ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার ঋণ আদায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা ২০১৫ সাল শেষে ছিল ৪৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরে নতুন করে ৭ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা ঋণ আদায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালে আদায় অযোগ্য ঋণ ২০১৪ সালের তুলনায় ৪ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বেড়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণ পুনর্গঠন ও বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না। যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ বিতরণের কারণে এটি হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও দুর্নীতিও রয়েছে। ব্যাংকাররা যেমন দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ দিয়েছেন, তেমনি প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ম মাফিক পরীক্ষা না করেও ঋণ দিয়েছেন। ফলে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদায় অযোগ্য ঋণের অর্ধেকের বেশি সরকারি মালিকানাধীন ৮ ব্যাংকের। এ ছাড়া বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১৯ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ১ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা ঋণ আদায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন মহলে এবং ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দারুণ অস্বস্তি রয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়াটা ব্যাংক খাতের জন্য অশনি সংকেত।