বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা-আতঙ্কের মাঝেও থেমে নেই খাসজমির মাটিকাটা

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০, ৩:২৯ অপরাহ্ণ

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আনোয়ারায় করোনা আতঙ্কের মাঝেও থেমে নেই খাসজমি থেকে মাটিকাটার কাজ।

করোনা-দুর্যোগ উপক্ষো করে উপজেলার চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল) সংলগ্ন এলাকা থেকে খাসজমির এসব মাটি কাটা হচ্ছে।

আর এই কাজের সাথে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় মুখ খুলতে পারছে না কেউ। সংশ্লিষ্টরা অনুমতি নিয়ে মাটিকাটার কথা বললেও প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলার প্রভাবশালী একটি চক্র সিইউএফএল সংলগ্ন এলাকার খাসজমি থেকে মাটি কেটে একটি প্রকল্পে বিক্রি করছে। এসব মাটির জন্য ওই প্রকল্প থেকে কোটি টাকার বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে বিনা পয়সায় সরকারি খাস জায়গা থেকে মাটি কেটে ওই প্রকল্পে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

মাটি কাটার সাথে জড়িতরা ‘প্রশাসন ও সাংবাদিক ম্যানেজ’ করা হয়েছে মর্মে প্রচার করে নির্বিগ্নে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর করোনা-আতংকের সময়ও ওই চক্র আবারও মাটিকাটা শুরু করে। এতে করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। মাটিকাটার সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ আছে এলাকায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিইউএফএল সংলগ্ন খাসজমিতে মাটিকাটার খননযন্ত্র দিয়ে ১০/১২ফুট গভীর করে মাটি খনন করা হচ্ছে। এর ফলে আশপাশে বড় খালের সৃষ্টি হয়েছে।

খাস জমিগুলোর দখলদার দাবি করে স্থানীয় নুর মোহাম্মদ মেম্বার বলেন, জমিগুলো আগে আমার দখলে ছিল। এখন এইগুলো টানেলে দখল করে নিয়েছে। এরাই মাটি কাটছে এসব আমি জানি না।

আপনার যোগসাজসে টানেল ঠিকাদার জসিম উদ্দিন খাসজমির মাটি কাটছেন বলে অভিযোগ – মুঠোফোনে এমন প্রশ্নে নুর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আপনি জসিমের সঙ্গে কথা বলেন ও সব ম্যানেজ করে মাটি কাটছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টানেল প্রকল্পে মাটি সরবরাহকারী জসিম উদ্দিন বলেন, ইউএনও এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা মাটি কাটছি।

তবে, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও শেখ জুবায়ের আহমেদ একুশে পত্রিকাকে জানান, আমরা কাউকে খাসজমির মাটি কাটার অনুমতি দেইনি।

তিনি আরও বলেন, আগেও আমরা অভিযান পরিচালনা করে দুইটি স্কেভেটর জব্দ করেছি। মাটিকাটা বন্ধে আমরা আবারও ব্যবস্থা নিব।