
চট্টগ্রাম : করোনা-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলার কার্যক্রমে এগিয়ে আসা নাভানা গ্রুপের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন হাসপাতালটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তারা।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় নাভানা গ্রুপের ৬ হাজার ৫শ’ স্কয়ার ফিটের এই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন ফিল্ড হাসপাতালের স্বপ্নদ্রষ্টা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদের প্রাক্তন ভিপি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া, একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার, নারীনেত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু। এসময় নাভানা গ্রুপের কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় ধরসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নবনির্মিত বায়েজিদ লিংক রোড ও করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র (বিআইটিআইডি) সংলগ্ন ওই স্থানটি প্রাথমিকভাবে পছন্দ হয়েছে উদ্যোক্তাদের। নাভানা গ্রুপের নিজস্ব ভবনটির দ্বিতীয় তলায় সাড়ে ৬ হাজার আয়তনের স্থানটির পাশেই রয়েছে একসাথে ১৫ জন চিকিৎসক, এসিস্টেন্ট থাকার ব্যবস্থা।
নাভানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দেশের এই দুর্গোগপূর্ণ মুহূর্তে প্রয়োজন হলে একই স্পেসের নিচতলার স্থানটিও ছেড়ে দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
এদিকে স্থান পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম ও সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুনের সাথে কথা বলেছেন উদ্যোক্তারা। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং তাদের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্য দিদারুল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা প্রতিদিনই সুরক্ষা সামগ্রী, খাবার নিয়ে করোনা-অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমার এলাকায় এ ধরনের হাসপাতাল হলে তা প্রকারান্তরে আমারই গর্ব, আমারই আনন্দ। আমার কাছ থেকে সবধরনের সহযোগিতা পাবে উদ্যোক্তারা।
সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন একুশে পত্রিকাকে বলেন, এটা নিঃসন্দেহে আশা-জাগানিয়া খবর। ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে করোনা-রোগীদের চিকিৎসা যেখানে নির্বিঘ্ন হয়ে ওঠেনি, সেখানে করোনা-রোগীদের অপার মমতায় বুকে টেনে নিয়ে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে যারা উদ্যোগী হয়েছেন আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। আমার এলাকায় হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার দ্বার খোলা থাকবে।- বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন।
এছাড়াও চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির এই উদ্যোগে সারথী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, করোনা-সংক্রমণের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে এক ঘরোয়া বৈঠক থেকেই দেশে প্রথম করোনা ফিল্ড হাসপাতাল করার ইচ্ছা পোষণ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ছোটভাই ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।
এরপর অসংখ্য মানুষ এই ইচ্ছার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার আগ্রহ পোষণ করেন। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অব্যাহত সমর্থন, সাড়ার মাঝেই শনিবার করোনা ফিল্ড হাসপাতালের জন্য জায়গা দিতে এগিয়ে আসে নাভানা গ্রুপ। তারা ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই জায়গাটি পরিদর্শন করা হয়।
আগামি দুই-একদিনের মধ্যে এ নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন ও নাভানা গ্রুপের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
