পোশাক কারখানা খোলা রাখলে শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব মালিকের


চট্টগ্রাম : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পোশাক কারখানা খোলা রাখলে শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিককে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ছুটি শেষ হচ্ছে আজ শনিবার। কিছু কিছু কারখানার ছুটি আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও অধিকাংশ কারখানা খুলছে আগামীকাল রোববার।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকের থাকবে।

কারখানা চালু রাখা বা বন্ধ রাখা যে কোনো অবস্থাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

একই কথা বলেছেন রপ্তানিমুখী নিট পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, রোববার থেকে কারখানা পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিককে নিতে হবে।

এদিকে বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাংলাদেশে ধরা পড়ার পর এর বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল নাগাদ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ করে দেয় সরকার। বন্ধ করা হয় জরুরি প্রয়োজনের ফার্মেসি ও খাবারের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকানপাট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতেই নিষেধ করা হচ্ছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীও।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে লাখ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো খোলা রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিক-শ্রমিকরা।

একটি পোশাক কারখানার মালিক সৈয়দ মারুফ হোসাইন একুশে পত্রিকাকে বলেন, কারখানায় শত রকমের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখলেও যে কর্মী কাজ করতে আসবেন তিনি পথে যে করোনায় আক্রান্ত হবেন না সেটার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। আবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কারখানায় আসা বা কাজ করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হবে না। এসব বিবেচনা করে সরকারি নিয়মে আমার কারখানার কর্মীদের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দিয়েছি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক একুশে পত্রিকাকে বলেন, কিছু কারখানা পিপিই, মাস্ক এসব সুরক্ষা সামগ্রী তৈরি করছে। এ ধরনের জরুরি কাজে নিয়োজিত কারখানাগুলো চালু রাখতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজন না হলে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আপাতত কারখানা বন্ধ রাখতে পারলে ভালো হবে।

খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারখানা যাতে চালু না থাকে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা বিজয় বসাক।