সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনাভাইরাস: চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১ জনকে জরিমানা

প্রকাশিতঃ রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০, ৯:০০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : হোম কোয়ারেন্টিনসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং, অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম প্রতিরোধকল্পে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

রোববার নগরীর ডবলমুরিং ও বাকলিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় বলে জানান পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এহসান মুরাদ।

অভিযানকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্টান পরিচালনা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করায় বাকলিয়া থানাধীন মাস্টার পুলের তিনটি কাপড়ের দোকানকে ৬ হাজার টাকা, দেওয়ান বাজারের ৩টি মুদি দোকানকে ১৫ হাজার টাকা, একটি মাছের দোকানকে ২ হাজার টাকা, বগার বিলের একটি ইলেকট্রিকের দোকানকে ১ হাজার টাকা ও আগ্রাবাদের পাঠানটুলী এলাকার একটি চা দোকানকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া সামাজিক দুরত্ব মেনে না চলা ও অপ্রয়োজনে বাসার বাইরে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরাঘুরি করার অপরাধে ৫টি মোটর সাইকেল আরোহীকে ২ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তা করেন। পাশাপাশি এলাকাগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হয়।

নগরীর ডবলমুরিং, বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন। এসময় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীদের সচেতন করা হয়। অতীব জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন যানবাহনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বের হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

নগরীর কোতোয়ালী, সদরঘাট, চকবাজার ও বায়েজিদ এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আফরোজ। এসময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য কওে দোকান খোলা রাখার দায়ে ৪টি দোকানকে দন্ডবিধি ২৬৯ ধারা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে বায়েজিদ এলাকায় ২ প্রবাসীর হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযানে সহযোগিতা করেন।

নগরীর পাহাড়তলী, হালিশহর ও আকবর শাহ এলাকায় এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক। এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এলাকার বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কলোনীতে আসা একজন তাবলীগের মুসল্লিকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্যে অনুরোধ করা হয়। এছাড়া এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে সরকারের নির্দেশনাগুলো প্রতিপালনের জন্যে অনুরোধসহ অলিগলিতে আড্ডারতদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ঘরে ফেরানো হয়। একইসাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে নগরীর চান্দগাঁও, পাচলাইশ, খুলশী ও বাকলিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। অভিযানে ফয়’স লেক এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি সেলুন খোলা রেখে আড্ডা জমানোর অপরাধে ওই সেলুন মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে এলাকার বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতসহ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করা হয়।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনিক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীণ আক্তার।