ভয়াবহ করোনা ঝুঁকিতে জাহাজভাঙা শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করলেন মালিকরা

ফাইল ছবি

 

চট্টগ্রাম : অনেকটা বাধ্য করে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিককে করোনা ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়ে জাহাজভাঙার কাজ শুরু করেছে মালিকপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৬০টি ইয়ার্ডে করোনা-ঝুঁকি ছড়িয়ে শুরু হয়েছে জাহাজভাঙার কাজ।

গত ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী শাটডাউন ঘোষণার পর জাহাজভাঙা খাতে কর্মরত প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক বাড়ি চলে গেলেও পাঁচ হাজার শ্রমিক যানবাহন-সংকটে পড়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি। আটকা পড়েন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ক্যাম্পে। সেই শ্রমকিদেরই আজ কাজে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

কাজে অংশ নেয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদেরকে জোর করে করোনা-পরিস্থিতিতে কাজে যোগদানে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ বলছে অন্যকথা। তাদের বক্তব্য, শ্রমিকরা চেয়েছে বলে তারা ইয়ার্ড চালু করেছে।

অভিযোগ ওঠেছে, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠন ”বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন” (বিএসবিএ) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তার কাছ থেকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করতে বাধা নেই মর্মে কৌশলে একটি চিঠি নিয়ে আসে এবং সেই চিঠিকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিকপক্ষ বরাবরে আরেকটি চিঠি ইস্যু করে বৃহস্পতিবার থেকে ইয়ার্ড চালু করে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, যানবাহন সংকটে আমরা বাড়ি ফিরতে পারিনি। এমনিতে করোনার ঝুঁকিতে আছি। তারউপর মানবেতর জীবনযাপন। এর মাঝেই কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাহাজভাঙা খাতে মালিকরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য স্বাভাবিক সময়েও কোনো সুরক্ষা সামগ্রী দেন না। করোনা থেকে বাঁচানোর জন্য তারা কোনো ব্যবস্থা নিবে সেটা অকল্পনীয়।

বিএসবিএ সভাপতি যে চিঠি ইস্যু করেছে তাতে করোনা থেকে শ্রমিকদের নিরাপদ রাখতে পিপিই, হ্যান্ড গ্লবস ও সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সংগঠনের সদস্যদের বলা হলেও বাস্তবে কিছুই প্রয়োগ করা হয়নি।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা ইপশা’র প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান এ ব্যাপারে একুশে পত্রিকাকে বলেন, শিল্পমন্ত্রণালয় থেকে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধা নেই মর্মে চিঠি ইস্যু করিয়ে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিএসবিএ সভাপতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠির সূত্র ধরে কাজ করতে যে চিঠি সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে দিয়েছেন সেখানে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার যে কথা বলেছেন তার একটিও কেউ পালন করছে না। তাই আমরা মনে করি, এটি একধরনের আইওয়াশ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি। আমরা সবসময় শ্রমিকদের ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে কাজ করানোর বিপক্ষে।

আমরা আশা করব, বৈশ্বিক এই মহামারিতে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং স্বার্থরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিবে। শ্রমিকরা না বাঁচলে, মালিকরাও বাঁচার কথা নয়। এ বিষয়টিই মালিকপক্ষ মাথায় রাখলে চলে, বলেন মো. আরিফুর রহমান।

বিএসবিএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের একুশে পত্রিকাকে বলেন, শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়নি, তারাই বরং স্বেচ্ছায় কাজ করতে চাচ্ছে। সরকারও যেহেতু ইয়ার্ড বন্ধের জন্য বলেনি এবং কাজ শিল্পমন্ত্রণালয় যেহেতু কাজ করতে বাধা নেই মর্মে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে তাই আমরা কাজ শুরু করেছি।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার না মানার অভিযোগ অস্বীকার করেননি বিএসবিএ সভাপতি নিজেই। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, আজ কেবল ইয়ার্ড খুলেছি। লোকজনও তেমন নেই। তাই এখনো স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারিনি। আগামি শনিবার, রোববার থেকে আশা করছি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবো। বরেন বিএসবিএ সভাপতি আবু তাহের।