
একুশে প্রতিবেদক : অবশেষে ঘর ভেঙে গেলো চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদরে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর একমাত্র পুত্র শারুন চৌধুরীর।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আইনানুগভাবে স্ত্রী সাইফা মীম এর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ এবং এর মধ্যদিয়ে বৈবাহিক জীবনের পরিসমাপ্তির কথা শারুন চৌধুরী নিজেই জানিয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে শারুন চৌধুরী তার ফেসবুক আইডিতে ‘অ্যানাউঞ্চমেন্ট’ শিরোনামে বিবাহ বিচ্ছেদের বিস্তারিত তুলে ধরে এই করোনাকালে হাটে হাড়ি ভাড়লেন।
হুইপপুত্র জানান, আমি ও সাইফা মীম এর বৈবাহিক জীবন বিগত সেপ্টেম্বর ২০১৯ এ আইনানুগ বিবাহ বিচ্ছেদ এর মাধ্যমে পরিসমাপ্ত হয়।
পারিবারিকভাবে বনিবনা না হওয়া, আমেরিকা অথবা বাংলাদেশ থাকা নিয়ে মতপার্থক্যকেই বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন শারুন।
শারুন চৌধুরী জানান, মতপার্থক্যের কারণে বিয়ের ২ বছর পর থেকেই আমরা প্রায় সময় আলাদাভাবে (সেপারেশন) থেকেছি। এবং বিগত বছরগুলোতে অনেকবার আমার মেয়ে ও পরিবারের কথা চিন্তা করে একসাথে সংসার করার উভয়ে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে একসাথে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না।
পারিবারিকভাবে আমার মেয়ে সাইশা চৌধুরীর ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে আমি সেপারেশন ও ডিভোর্সের কথাটি ফেসবুকে আনতে চাইনি, যদিও বিষয়টি নিকট বন্ধু ও পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কিন্তু পরিবারের ইচ্ছাতে বিষয়টি সামাজিকভাবেও জানানোর তাগাদা থেকে স্বজন-শুভার্থী, শুভানুধ্যায়ীদের সাথে শেয়ার করার কথা জানান শারুন ।
শারুন বলেন, দুই পরিবারের সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সাইশা চৌধুরী আমার সাথেই থাকবে এবং আমি তার আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। অবশ্যই তার মায়ের আদর থেকেও আমি তাকে বঞ্চিত করবোনা। যখন সে মায়ের সাথে দেখা করতে চাইবে আমি বাঁধা দিবোনা। এছাড়াও আমাদের নিয়মিত কলহ সাইশার সুস্থ মানসিক বিকাশে বাধাঁ হয়ে দাড়াঁতে পারে তাই দুজনই যেন শান্তিতে থাকতে পারি এবং দুই পরিবারও যেন শান্তিতে থাকতে পারে এই কামনা করেই সমঝোতার ভিত্তিতেই শান্তিপূর্ণভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
শারুন চৌধুরী কন্যা ও নিজের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, শত্রু সবাই আমি জানি ব্যথিত, আমি মনে করি মহান সৃস্টিকর্তা যা করেন সর্বদা আমাদের মঙ্গলের জন্য করেন। যাই হোক, আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও যারা আমাকে ব্যাক্তিগতভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করেন সবার কাছে আমার বিনীতভাবে অনুরোধ থাকবে আপনারা সবাই আমার আদরের মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন। যাতে আমি তাকে একটা সুস্থ ও সুন্দর জীবন দিয়ে মানুষের মতন মানুষ করে তুলতে পারি।
এ সংক্রান্ত পোস্টের একেবারে শেষের দিকে শারুন চৌধুরী বলেন, ’জীবনের অন্ধকারকে প্রতিনিয়ত ঘৃণা করার চাইতে আমার কাছে আলোর প্রদীপ জ্বালনোটাই উত্তম মনে হয়েছে।’
এই নিয়ে গণমাধমে বাড়াবাড়ি না করতেও তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
