সাতদিন নয়, সারাজীবন ‘মোবাইল’ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন তিনি!

চট্টগ্রাম : গত ১৩ এপ্রিল হার্ট অ্যাটাকে ভর্তি হয়েছিলেন নগরের মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে। ৮দিন পর সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন বাসায়। সেদিনই রাত ১০ টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, আগামি ৭ দিন মোবাইল ব্যবহার করা থেকে চিকিৎসক বিরত থাকতে বলেছেন।

৭ দিন নয়, সারাজীবনের জন্য মোবাইল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন তিনি। আর কখনো ফেসবুকে গঠনমূলক পোস্ট দেবেন না, সুখ-দুঃখ শেয়ার করবেন না স্বজন, শুভার্থী, বন্ধুদের সাথে।

হ্যাঁ, বীর মু্ক্তিযোদ্ধা, লেখক, সংগঠক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব সবার প্রিয় লোকমানুল আলম আর নেই।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল হার্ট অ্যাটাক করে মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমানুল আলম।

চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টায় সুস্থ হয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) হাসপাতাল থেকে বাসায় যান। রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে তিনি ফেসবুকে চিকিৎসকের ৭ দিন মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শটি শেয়ার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার অনুরোধ করে ৫২ জন ফেসবুক বন্ধু লোকমানুল আলমের সুস্থতা কামনা করে সেই পোস্টে মন্তব্য করেন।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ স্বাস্থ্যের অবনতি হয় লোকমানুল আলমের। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণেই সবকিছু শেষ। চিকিৎসকরা বলেছেন, হাসপাতালে আনার আগেই লোকমানুল আলমের মৃত্যু হয়েছে।

লোকমানুল আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী সমিতি -৮২’র জীবন সদস্য, ফটিকছড়ির ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সদস্য সচিব ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। একসময় সাংবাদিকতাও করতেন।

একটা সময়ে সাংবাদিকতা ছাড়লেও লেখালেখি ছাড়েননি। চট্টগ্রামের সৃজনশীল, বিদগ্ধ সব মানুষজনের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় সখ্যতা। অত্যন্ত সজ্জন, সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী মানুষ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত লোকমানুল হকের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রয়াত লোকমানুল আলমের প্রতিবেশি সাংবাদিক আকাশ আহমেদ একুশে পত্রিকাকে জানান,  দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার বাদ আছর ফটিকছড়ির ধর্মপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে, স্বজন-শুভার্থী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানান আকাশ আহমেদ।