
শরীফুল রুকন : চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বন্দিদের কাছে এখন থেকে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’ ও ব্র্যাক ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশে’ টাকা পাঠানো যাবে।
পাঠানো টাকা সংশ্লিষ্ট বন্দির প্রিজনার্স ক্যাশ (পিসি) হিসাবে যুক্ত হবে। প্রতি বন্দির জন্য একবারে এক হাজার টাকা ও মাসে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পাঠানো যাবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বন্দিদের জন্য সরকারের বরাদ্দ যা আছে সব আমরা দিচ্ছি। এরপরও সাবান, শুকনো খাবারের মত কিছু পণ্য তাদের লাগে। এই চাহিদা পূরণের জন্য কারাগারে ক্যান্টিন ও পিসি ব্যবস্থা চালু আছে। বন্দির পিসি হিসাবে স্বজনরা টাকা পাঠালে তারা কারাগারের ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিতে পারেন।’
‘কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কারাগারে দর্শনার্থী প্রবেশ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গণপরিবহনও বন্ধ। তাই দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ কারাগারে এসে বন্দিদের পিসিতে টাকা জমা দিতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কারাগার কর্তৃপক্ষ পিসিতে টাকা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল থেকে অফিসিয়ালি ‘নগদ’ এর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালু করেছি। বিকাশ দুয়েকদিনের মধ্যে চালু হবে। এটা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়, সফটওয়্যারের মাধ্যমে হচ্ছে। বন্দির স্বজনরা আমাদের চালু করা নাম্বারে টাকা দিলে ব্যাংক থেকে আমরা টাকাগুলো তুলে এনে সংশ্লিষ্ট বন্দির পিসি হিসাবে যুক্ত করে দেবো।’
কারাগারের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের কেউ টাকা পাঠাতে চাইলে নগদের মাধ্যমে ০১৭৬৯-৯৭০৩১৫ এ নাম্বার ব্যবহার করে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই পেমেন্ট পদ্ধতিতে টাকা প্রেরণ করতে হবে। একজন বন্দির জন্য একবারে এক হাজার টাকা ও মাসে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পাঠানো যাবে।
নগদ-এ টাকা পাঠানোর সময় চার্জসহ পাঠাতে হবে। ৫০০ টাকা পাঠালে অতিরিক্ত ৬ টাকা এবং এক হাজার টাকা পাঠালে অতিরিক্ত ১২ টাকা পাঠাতে হবে। নয়তো চার্জ কেটে বাকি টাকা পিসিতে যুক্ত করা হবে।
টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে বন্দির নাম, বাবার নাম, হাজতী/কয়েদী নম্বর, ভবনের নাম এবং যে মোবাইল নম্বর থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে সেটা উল্লেখ করে উল্লেখিত নগদ নাম্বারে এসএমএস দিতে হবে। অন্যথায় পাঠানো টাকা বন্দির পিসিতে জমা করা সম্ভব হবে না।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, নগদ এর মাধ্যমে পাওয়া টাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন্দির পিসিতে তাৎক্ষণিক যুক্ত করা হবে এবং বন্দিকে সেটা জানিয়ে দেয়া হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী পিসির টাকা সংশ্লিষ্ট বন্দি মোবাইলে কথা বলা ও পণ্য কেনার ক্ষেত্রে খরচ করতে পারবেন।
এদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদানের বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখতে নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। নগদ-বিকাশে টাকা পাঠানো-গ্রহণের তথ্য প্রতি মাসের ১৫ ও ৩০ তারিখে দুই দফায় অধিদপ্তরে ই-মেইলে পাঠাতে কারাগারগুলোকে গত ২৯ এপ্রিল নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তর সদর দপ্তরের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু চট্টগ্রাম কারাগার নয়, সারাদেশের কারাগারগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পিসির টাকা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্ধারিত নম্বর ছাড়া অন্য কোন নম্বরে পিসির টাকা গ্রহণ করা হলে বা পিসির টাকা ছাড়া অন্য কোন টাকা গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকরা নিবিড় তদারকির মাধ্যমে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করছেন বলেও জানান কারা অধিদপ্তর সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
