- ক্যান্সার-আক্রান্ত মা’র সাথে শিশু অহনা
একুশে প্রতিবেদক : প্রথমে পিত্তথলিতে (গলব্লাডার) পাথর। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করায় এক পর্যায়ে ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, দ্রুত অপারেশন করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এই অপারেশন সম্ভব নয়। অপারেশন করতে হবে ঢাকায়। আর সেই অপারেশনে দরকার দুই লাখ টাকা।
কিন্তু মায়ের চিকিৎসার জন্য এই দুই লাখ টাকা জোগাড়ের সামর্থ্য নেই অহনার। ১২ বছরের অহনা ছাড়া হতভাগ্য মায়ের আর যে কেউ নেই! এই পরিস্থিতিতে মা-কে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ একলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ইবনাত পারভীন অহনা।
মায়ের সুচিকিৎসার জন্য এরইমধ্যে স্বজন-পরিচিত, অনেকের দ্বারস্থ হয়েছে সে। দরখাস্ত নিয়ে হাজির হয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে। তিনি জানালেন স্কুল খোলা থাকলে সমন্বিতভাবে কিছু একটা হয়তো করা যেতো। এ মুহূর্তে কিছু করা সম্ভব নয়। অগত্যা তিনি পাঠালেন স্থানীয় কল্যাণ ফাউন্ডেশনে, বললেন একটা দরখাস্ত দিলে তারা হয়তো কিছু একটা করতে পারে। কিছু হলো না সেখানেও।
এখন কী করা? এত ছোট বয়সে পড়াশোনা বাদদিয়ে মায়ের চিকিৎসার জন্য একেকবার একেকজনকে খুঁজে বেড়াবে অহনা? দুনিয়ায় কি এমন কেউ নেই যে এ বাচ্চাটার চোখের পানি মুছে দিবে?
এমন অসহায়ত্বের মাঝেই মাথায় বুদ্ধিটা আসলো শিশু অহনার। এত ছুটোছুটি না করে মাননীয় প্রধামন্ত্রীর কাছে গেলেই তো হয়। ছোটকাল থেকেই সে শুনে আসছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক বেশি মমতাময়ী। অপরের দুঃখে তিনি দুঃখী হন, ব্যথায় হন কাতর। তিনিই পারেন মাকে সুস্থ করে অহনার চোখের জল মুছে দিতে।
তাই একবুক আশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছে অহনা। কিন্তু সেই চিঠি কীভাবে পৌঁছাবে সে জানে না। তাই দ্বারস্থ হয়েছে একুশে পত্রিকার। একুশে পত্রিকার ফেসবুক পেইজে চিঠিটা ইনবক্স করে অহনা বলেছে, চিঠিটা যেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। চিঠিটা এরকম –

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামুআলাইকুম। আমি ইবনাত পারভীন অহনা, একলাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাএী।গত কয়েক মাস থেকে আমার আম্মু আমেনা পারভীন পলি খুবই অসুস্থ। ডাক্তার দেখানোর পর উনাকে হাসপাতালে ভর্তি দেন এবং কিছু টেস্ট করতে বলেন। টেস্টগুলো করার পর রিপোর্ট আসে। সব রির্পোট দেখে ডাক্তার বলছেন, আমার আম্মুর পিত্তথলিতে পাথর আর ক্যান্সার হয়েছে। দ্রুত অপারেশন করতে হবে।এ অপারেশন নোয়াখালীতে হবে না। ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। আর এই অপারেশন করতে দুইলাখ টাকা খরচ হবে।
এমতবস্থায় আমাদের পরিবারে এতটাকা দিয়ে চিকিৎসা করার মত সামর্থ নেই।দয়া করে আমার মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য আপনার সাহায্য কামনা করছি।
আমরা আমাদের নানুর বাড়িতে থাকি।আমার নানাও বেঁচে নেই। আমার এক মামা, তিনিও বেকার।আমার মায়ের চিকিৎসা করানোর কোনো সামর্থ আমাদের নেই।কিন্তু আমার মা ছাড়া আমাকে দেখারও কেউ নেই।
আমার বাবা আছে, কিন্তু আমার আর আমার মায়ের কোনো খরচ বহন করে না। খোঁজখবরও নেয় না্। আমি আমার মায়ের একটাই সন্তান। আমার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন আমার মা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্লিজ আমাকে একটু সাহায্য করেন, আমার মাকে বাঁচান।
ইতি
ইবনাত পারভীন অহনা
ওয়ালী বক্সী বাড়ী এলাশপুর, বেগমগঞ্জ নোয়াখালী।
প্রসঙ্গত, ইবনাত পারভীন অহনা পড়াশোনায় মেধাবী। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও প্রবল ঝোঁক তার। লোকনৃত্য, দলীয় নৃত্য, গানসহ স্কুল ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সে অর্জন করেছে বেশ কিছু সম্মাননা, ক্রেস্ট। মা ছায়া হয়ে থাকলে জীবনে অনেক বড় হতে পারবে, দেশের জন্য কাজ করতে পারবে- এমন প্রত্যয় জানিয়ে একুশে পত্রিকার কাছে সম্মাননার কিছু ছবিও পাঠিয়েছে অহনা।
মানবিকবোধসম্পন্ন, উদারচিত্তের কেউ ব্যক্তিগতভাবে শিশু অহনার ডাকে সাড়া দিতে চাইলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে +8801995699544

