করোনা রোগীরা ক্যারম খেলছেন!

চট্টগ্রাম :  একদিকে ক্যারম, অন্যদিকে লুডু। আরেক প্রান্তে দাবা কিংবা চলছে প্লেয়িং কার্ড। দেখেই মনে হবে কোনো স্পোর্টস জোন বা অ্যান্টারটেইনমেন্ট ক্লাব। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি হাসপাতাল।

প্রশ্ন হতে পারে হাসপাতালে আবার খেলা? হ্যাঁ হাসপাতালেই খেলা, খেলা নয় শুধু, অন্যরকম এক উৎসবমুখরতা।

শুক্রবার (২২ মে) রাতে খেলতে খেলতে্ এমনই উৎসবমুখরতায় মেতেছেন চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা-রোগীরা। এসময় তাদের কেউ ফিরে গেছেন অতীত স্মৃতিকারতায়, কেউবা হয়েছেন নস্টালজিক কিংবা আবেগপ্রবণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলেই চট্টগ্রাম ফিল্ড হাপপাতালে রোগীদের চিত্ত-বিনোদন ও খেলাধূলার জন্য যুক্ত হয়েছে দুটি ক্যারম বোর্ড, দুটি লুডু, দুটি দাবা এবং দুই সেট তাস। ইফতারের পর রাতে খেলার উপাদানগুলো করোনা রোগীর দুই ওয়ার্ডে উন্মুক্ত করে দিলে সেখানে তৈরি হয় অনন্য এক পরিবেশ।

করোনা রোগীদের জন্য চারদিকে যখন অবহেলা, ঘৃণার স্তূপ ছড়ানো-ছিটানো, সন্তান যখন করোনা-আক্রান্ত বাবা-মাকে নির্মম নিষ্ঠুরতায় ফেলে দিয়ে যায়, তখন বিনাপয়সায় পরম মমতায় চিকিৎসাসেবা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সে এক বিশাল প্রাপ্তি। তার উপর রিক্রেয়শনের জন্য খেলাধূলার ব্যবস্থা যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি, হাসপাতালেই মামার বাড়ি!

দীর্ঘদিন পর ক্যারম খেলা, তাও আবার করোনা-হাসপাতালে- এমন উতলা পরিবেশে স্বাভাবিকভাবেই  স্মৃতিকাতর ও আবেগী হযে ওঠেন করোনা রোগীরা।

ক্যারম খেলায় অংশ নিয়ে ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শিল্পী একুশে পত্রিকাকে বললেন, বহু বছর আগে ছোটবেলায় খেলেছিলাম ক্যারম। সেই ক্যারম আর গুটি ধরে ফিরে গিয়েছিলাম শৈশবের ‍উন্মাদনা্য়। করোনাময় দিনে, অবহেলা-অনাদরের নিষ্ঠুর উপাখ্যান ছাপিয়ে এই সমাদর, এই রিক্রিয়েশন সত্যিই এক অনন্য প্রাপ্তি আমাদের জন্য। এসময় সপ্তাহান্তের চিকিৎসায় তার করোনা-নেগেটিভ আসার সুসংবাদটিও জানান তিনি।

কেন এই খেলাধূলার সংযোজন জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের সিই্ও ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া শুক্রবার রাতে একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি লক্ষ করলাম করোনা-আক্রান্তরা শারীরিকভাবে মরার আগে মানসিকভাবে মরছেন। তাই সবার আগে তাদের দরকার রিক্রিয়েশন, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। তারই অংশ হিসেবে এসব খেলাধূলার সংযোজন।

শুধু তাই নয়, এরই মধ্যে ব্যবস্থা হয়েছে সুর-বিনোদনের। খেলাধূলা আর সুরে সুরে আমরা গড়ে তুলতে চাই বাংলাদেশে এক ব্যতিক্রমী চিকিৎসাসেবা। মানবিক বিপর্য়যের এই ক্রান্তিকালে রোগীরা যদি হোমলি, ফ্রেন্ডলি এনভায়রনমেন্ট পান আমার বিশ্বাস তারা খুব দ্রুতই করোনা-জয় করতে সক্ষম হবেন। – বলেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।