শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭

জাল মুখে নিয়ে হালদার তীরে পড়ে আছে মৃত ডলফিন

প্রকাশিতঃ রবিবার, মে ২৪, ২০২০, ১:২৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের হালদা নদীর রাউজান অংশের উরকিরচর এলাকায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে।

রোববার সকালে ডলফিনটিকে নদীর তীরে দেখে স্থানীয়রা প্রশাসনকে জানান বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, মৃত ডলফিনের বিষয়টি সকালে জানতে পেরেছি, স্থানীয়দের কাছ থেকে। মদুনাঘাট হ্যাচারির উল্টো পাশে রাউজান অংশের উরকিরচর এলাকায় পাওয়া গেছে সেটি।

‘ডলফিনটি ভাসতে ভাসতে নদীরে তীরে এসে আটকে ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমরা রাউজান উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ডলফিনটির মুৃখে মাছ ধরার জালের টুকরো ছিল। স্থানীয়দের ধারণা জালে আটকা পড়ে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে হাটহাজারীর ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, আপাতত মনে হচ্ছে জালে আটকা পড়েনি। ঘটনাস্থলে রাউজানের ইউএনও গিয়েছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোনায়েদ কবীর সোহাগের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এর আগে গত ৮ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর হালদা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়, যেটিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডলফিন হত্যা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গত ১২ মে ভার্চুয়াল কোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম লিটন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও চট্টগ্রামের রাউজানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রিটে বিবাদী করা হয়।

সেদিন হালদা নদীতে ডলফিন রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে ডলফিন রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালককে ইমেইলের মাধ্যমে আদালতকে জানাতে বলা হয়।

এরপর গত ১৯ মে বিষয়টি আবার শুনানি হয় উচ্চ আদালতে। সেদিন হালদা নদীর জীব বৈচিত্র্য, কার্প জাতীয় মা মাছ ও ডলফিন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ একটি কমিটি গঠন করে দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদেশে বলা হয়, পরিবেশ অধিদফতর হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ জীব বৈচিত্র্য, কার্প জাতীয় মা মাছ ও ডলফিন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দফতর, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের অংশীদারিত্বে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ‘হালদা নদীর ডলফিন হত্যা রোধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীব বৈচিত্র্য এবং সকল প্রকার জাতীয় মা মাছ রক্ষা কমিটি’ গঠন করবেন।

‘নদীর তীরবর্তী এলাকার সংসদ সদস্যরা এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। কমিটি তাদের উপদেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

এই কমিটিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অন্য সদস্যরা হলেন— জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদফতর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন করে প্রতিনিধি, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, রাউজান, রামগড় ও মানিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের মনোনীত দুই জন হালদা গবেষক ও দুই জন এনজিও প্রতিনিধি এবং নদী তীরবর্তী উপজেলা চেয়ারম্যানদের রাখা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব হবেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।

হাইকোর্ট তার আদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলেন।

এর মধ্যেই রোববার আরেকটি ডলফিন মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ নিয়ে গত দুই বছরে হালদা নদীতে অন্তত ২৫টি ডলফিন মারা গেল।