মেহেদির রঙ না মুছতেই পরকিয়ায় বলি!

এ কে আজাদ, লোহাগাড়া : আনোয়ার হোসেনের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা মজিদার পাড়ায়। মতিউর রহমানের ছেলে আনোয়ার পেশায় সিএনজি চালক। পাশ্ববর্তী সৌদি আরব প্রবাসী স্ত্রীর সাথে তুমুল পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক তার। পাড়া-প্রতিবেশিরাও জানতো সে খবর। পরকিয়া থেকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় পরিবারের সদস্যরা।

এ পরিস্থিতিতেই পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় তাকে অন্যত্র বিয়ে করাবে। অন্য নারীর সংস্পর্শে এলে হয়তো পরকিয়া ভুলে সংসার ও কর্মে মনোযোগী হবে। পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবে ’না’ করেননি আনোয়ার। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন ঘর আর পরকিয়া দুকূলই রক্ষা করে আমোদফূর্তির জীবন কাটাবেন।

পরকিয়ার বিষয়টি আড়ালে রেখে গত ২২ মার্চ সানাই বাজিয়ে বিয়ে করেন উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আলী সিকদার পাড়ার আহমদ কবিরের কন্যা নাছিমা আকতার মুন্নীকে (২০)।

বিয়ের পর আনোয়ারের পরকিয়া আসক্তির বিষয়টি নববধূ মুন্নীর চোখে ধরা পড়ে। তার প্রশ্ন একটাই- অন্য নারীর সাথে পরকিয়ায় যুক্ত থাকলে কেন আমাকে বিয়ে করলে? আমার জীবনটাই বা কেন শেষ করলে? এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই উচ্চবাচ্য, বাকবিতণ্ডা চলে তাদের মাঝে। এক পর্য়ায়ে মুন্নী হয়ে উঠেন পরকিয়ায় বড় বাধা, পথের কাঁটা।

এ পরিস্থিতিতে আনোয়ারের কাছে মুন্নী নয়, পরকিয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই মুন্নীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আঁটেন তিনি। যেমন পরিকল্পনা তেমন কাজ। গত ২৩ মে ভোরে মুন্নীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্নহত্যা বলে নাটক সাজান আনোয়ার। স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে চিৎকার দিতে দিতে পাড়ার লোকজনকে জড়ো করেন আনোয়ার। জড়ো হওয়া লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই পার্শ্ববর্তী বাড়ির সৌদি প্রবাসী সৈয়দ আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যান আনোয়ার।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

নিহত নাছিমা আক্তার মুন্নীর বড় ভাই মাহফুজুর রহমান জানান, বিগত ২২ মার্চ চরম্বা মজিদার পাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে আনোয়ারের সাথে তাঁর ছোট বোন মুন্নীর ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। কিন্তু আনোয়ার আগে থেকেই একই এলাকার সৌদি প্রবাসীর এক স্ত্রীর (দুই সন্তানের জননী) সাথে পরকিয়ায় আসক্ত ছিল। বিষয়টি আমরা জানতাম না। বিয়ের পরও আনোয়ারের পরকিয়ায় আসক্তির বিষয়টি আমার বোনের চোখে ধরা পড়লে সে তাতে বার বার বাঁধা দেয়। আর এতে স্বামীর রোষানলে পড়ে সে। ফলে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার নাটক সাজায় স্বামী আনোয়ার। এরপর পার্শ্ববর্তী বাড়ির সৌদি প্রবাসী সৈয়দ আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে পালিয়ে যায় আনোয়ার।

মাহফুজুর রহমানেরও প্রশ্ন- পরকিয়া আসক্ত জেনেও কেন সে আমার বোনকে বিয়ে করলো? প্রয়োজনে সে পরকিয়া নিয়ে থাকতো? কেনই বা আমার বোনকে হত্যা করলো, আমাদের পরিবারটা ধ্বংস করলো?

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে ২৪ মে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে বোঝা যাবে হত্যা নাকি আত্নহত্যা। এরপর সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।