বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

লোহাগাড়ায় সালিশি বৈঠকে অতর্কিত হামলা, আহত ৩

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ২৭, ২০২০, ১০:২৯ অপরাহ্ণ


লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের নোয়ারবিলা খয়রাতি পাড়ায় এক সালিশি বৈঠকে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের উপস্থিতিতেই প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় স্বামী, স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনাটি ঘটে। এতে আহতরা হলেন উপজেলার চরম্বা নোয়ারবিলা খয়রাতি পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে শাহ আলম (৩০) ও তার স্ত্রী জন্নাত আরা বেগম (২০) ও শ্বশুর একই এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে ছালেহ আহমদ (৪৮)।

এ ঘটনায় আহত জন্নাত আরা বেগম বাদী হয়ে বুধবার (২৭ মে) একই এলাকার জাসের (২৫), খানে আলম (২৩), মোহাম্মদ ইদ্রিস (৪৮), আইয়ুব আলী (৩৫), নুরুজ্জাহান বেগম (৪০) ও জয়নাব বেগমের (৪০) বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে আহত শাহ আলমের সাথে আসামিদের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে আসামিরা ১৯ মে শাহ আলমের বাড়ির চলাচলের পথ রুদ্ধ করে টয়লেট নির্মাণ করেন। পরে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় শাহ আলমের বাড়ী ঘেঁষে জোরপূর্বক ঘেরা-বেড়া দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। শাহ আলম ঘেরা-বেড়াটি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবু মুছাকে বিচার দেন। মেম্বার আবু মুছা বাদি-বিবাদীর বাড়ির উঠানেই এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন। এ সালিশি বৈঠক চলাকালেই প্রতিপক্ষ জাসের, খানে আলম ও আইয়ুবসহ ১০-১২ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে অতর্কিত অবস্থায় শাহ আলমকে ধারালো দা ও লাটি-সোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এলে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও শ্বশুর ছালেহ আহমদকেও রক্তাক্ত জখম করা হয়।

স্থানীয় চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু মুছা বলেন, বাড়ির সীমানা বিরোধ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ রয়েছে। বাবা রাতে ঘেরা-বেড়া দিলে ছেলে শাহ আলম সকালে তা ভেঙে ফেলে। এ বিষয়ে ছেলের বিরুদ্ধে বাবা আমাকে বিচার দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েই বিষয়টি সালিশ-মিমাংসার চেষ্টা করি। বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসার শেষান্তে তাদের তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারি হয়। মারামারি থামাতে গিয়ে আমি নিজেও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হই।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।