শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

চট্টগ্রামে ২৬৮ জনের বেশি সরকারি চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২০, ১০:৫১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : করোনায় সংক্রমিত মানুষদের নিরলসভাবে সেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের ২৬৮ জনের বেশি সরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের হালনাগাদ করা তথ্যে একুশে পত্রিকা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, তাঁর দপ্তরের একজন মেডিকেল অফিসার ও গাড়ি চালক রয়েছেন।

এছাড়া চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডির সহকারী অধ্যাপক ও মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ ও ল্যাবের একজন কর্মীর দেহেও করোনার জীবাণু মিলেছে।

চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ জন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ফটিকছড়ির নানুপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন সহকারী সার্জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সহকারী অধ্যাপক আছেন।

এছাড়া লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী আছেন। দোহাজারী ৩১ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসারও আক্রান্ত হয়েছেন। চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী একজন, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী সার্জন ও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী, হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

এর বাইরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; তাদের চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের করা তালিকায় যুক্ত করা হয়নি।

এদিকে খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্য বিভাগের ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মাটিরাঙা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ল্যাব কর্মী ও একজন অফিস সহকারী আছেন। দুজনই পুরুষ। মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন পরিচ্ছন্নকর্মী, একজন চালক ও একজন নিরাপত্তাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন একজন অফিস সহকারীও আছেন আক্রান্তের তালিকা।

এদিকে কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার, টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার, একজন নার্স, একজন অফিস সহকারী ও একজন পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছেন। আইওএম এর মেডিকেল অফিসার, মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যক্ষ্মা-কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ সহকারী (টিএলসিএ) ও একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমআইএস সহকারী ও একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট, একজন অফিস সহকারী, ২৫০ বেড সদর হাসপাতালের একজন জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার (ইএমও) ও চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্যাকমো রয়েছেন আক্রান্তের তালিকায়।

বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও একজন আয়া।

রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগে ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন), ৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টোর কিপার, একজন চালক, দুইজন অফিস সহায়ক, একজন আয়া ও একজন পরিচ্ছন্নকর্মী আছেন। এছাড়া কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্য সহকারী, বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল টেকনিশিয়ান, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন ইপিআই কর্মী আছেন।

ফেনীতে স্বাস্থ্য বিভাগের ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, একজন মেডিকেল অফিসার ও দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন। ফেনী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের একজন গাড়ি চালক ও তিনজন অফিস সহায়ক আক্রান্ত হয়েছেন। ফেনী ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নকর্মী ও একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক আক্রান্ত হয়েছেন। ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এজন হিসাব রক্ষক ও একজন স্যানিটারি পরিদর্শক আছেন। পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ক্যাশিয়ার, একজন মিডওয়াইফ ও তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারও করোনায় আক্রান্ত।

এছাড়া নোয়াখালী স্বাস্থ্য বিভাগে ৪৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এবজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, একজন করে স্যাকমো, আয়া ও ওয়ার্ডবয় রয়েছেন। কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। সোনাইমুডি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকসহ তিনজন, নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, তিনজন অফিস সহায়ক ও একজন চালক আক্রান্ত হয়েছেন। চাটখীল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুইজন আছেন।

এদিকে কুমিল্লা স্বাস্থ্য বিভাগের ৫৮ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর স্বাস্থ্য বিভাগের ২২ জন, চাঁদপুর স্বাস্থ্য বিভাগের ১১ জন, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।