বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর: রকি বড়ুয়ার ‘ডানহাত’ জাহাঙ্গীরের দোষ স্বীকার

এ. কে. আজাদ, লোহাগাড়া : জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্রের সাথে গোপন বৈঠক করে আলোচনায় এসে পরে গ্রেপ্তার হওয়া রকি বড়ুয়ার বাড়ি থেকেই গত ৩ মে রাত সাড়ে ৩টার দিকে দা, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে চরম্বা বিবিবিলাস্থ বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর চালানো হয়। এ সময় রকি বড়ুয়ার ঘনিষ্ঠ ৩-৪ জন সহযোগীসহ ১০-১৫ জন লোক রাস্তায় পাহারা দেয়। তারা নির্বিঘ্নে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করে নিজের মতো করে চলে যায়। সকালে নিজের অনুসারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেলাল মৌলভীর নেতৃত্বে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করা হয় বলে গুজব ছড়াতে থাকেন রকি বড়ুয়া।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন আহমদের আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দিয়েছেন রকি বড়ুয়ার ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম (২৭)। তিনি নিজেও চরম্বা বিবিবিলাস্থ বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর পরিকল্পনায় রকি বড়ুয়ার বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন বলে জানান।

আগেরদিন বুধবার (২৭ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগাড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জাহাঙ্গীর আলমকে চরম্বা বিবিবিলা থেকে গ্রেপ্তার করে। জাহাঙ্গীর উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিবিবিলা পশ্চিম পাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে মৌলভী হেলাল উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ১৫ মে রাতে আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত কামাল উদ্দীন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পরদিন ১৬ মে তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে হাজির করি। সেদিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কামাল উদ্দীন। বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত কামাল উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি এবং তারা দু’জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, আটক কামাল উদ্দীন ও জাহাঙ্গীর আলম বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় জড়িতদের নাম ও পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত জানিয়েছে। তারা দু’জনই রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে পরিকল্পনা বৈঠক পূর্বক রকি বড়ুয়ার নেতৃত্বেই বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর চালানো হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। অস্ত্র-মাদকসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রকি বড়ুয়াকেও রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে, গত ৪ মে ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল রকি বড়ুয়া তার বাহিনী দিয়ে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের আলোচিত এ বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের ঘটনায় খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির মাধ্যমে ঘটনার মূলরহস্য ও পরিকল্পনা উম্মোচন করায় পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে লোহাগাড়ার সাধারণ মানুষের। নয়তো অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হতো বলে জানান স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, আদালতে আসামি কামাল উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির মাধ্যমে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেছে। আসলে অপরাধ করে খুব বেশীদিন টিকে থাকা যায় না। এ ঘটনায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।