বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

পদ পেতে স্বেচ্ছাসেবক লীগে দৌড়ঝাঁপ, কেন্দ্রীয় নেতারা নিলেন ‘আতিথেয়তা’

প্রকাশিতঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:৫৫ অপরাহ্ন

জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত : যে কোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এমন অবস্থায় সংগঠনটির পদ পেতে তদবিরে ব্যস্ত শতাধিক নেতাকর্মী। অন্যদিকে এই সুবাদে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রামে সফর করে পদ-প্রত্যাশিদের কাছ থেকে নিচ্ছেন ‘আতিথেয়তা’, আদর-অভ্যর্থনা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটনের ভাই খোকন এবং নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছের মানুষজনই মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যাচ্ছেন এমন আলোচনা চলছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাই নিজেদের পদপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কেউ কেউ ধর্ণা দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। আবার কেউ ছুটছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ দেওয়ার নামে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে রুবেল শীল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জানা গেছে, নিজেকে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবুর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়েই এমন অপকর্ম করছেন তিনি। যদিও ইতোপূর্বে কখনো কোনো ধরনের রাজনীতি বা আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না রুবেল।

তবে  ইদানীং দেবুর বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে দেখা যাচ্ছে রুবেল শীলকে। নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজের পদ নিশ্চিত করতে প্রায় সময়ই দেবুর সাথে থাকছেন তিনি। তাছাড়া নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ছাপিয়ে প্রচার করছেন। শুধু তা নয়, নিজেকে দেবুর পিএস পরিচয় দিয়ে বিভিন্নজনকে পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাও হয়েছে রুবেল। যার মধ্যে সিআর মামলা নং- ৩১৬/২০২২ (পাঁচলাইশ) উল্লেখযোগ্য। ওই মামলায় তিনি ১নং আসামি। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মো. জসীম নামে এক ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রুবেলের বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক পদে চসিক প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটনের ভাই আব্দুল মান্নান খোকনকে রাখার সিদ্ধান্ত অনেকটা পাকাপোক্ত বলে আলোচনা চলছে। রাজনীতিতে তেমন অবস্থান না থাকলেও ভাই লিটনের সুবাদে খোকনের কপাল খুলতে পারে আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জোর তদবিরের পাশাপাশি নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নানাভাবে খুশি করার চেষ্টা করছেন লিটন।

সর্বশেষ ২৮ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজের বাসায় মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াত দেন প্যানেল মেয়র লিটন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু সেই দাওয়াতে না গেলেও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ উপস্থিত ছিলেন সেই দাওয়াতে।

এর আগে চলতি বছরের ৯ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সম্পাদক হওয়ার পর বিভিন্ন নেতাদের কাছে ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দেবাশীষ নাথ দেবু ও আজিজুর রহমান আজিজ। তারই অংশ হিসেবে গত ১৮ মার্চ প্যানেল মেয়র লিটনের কাছে ফুল নিয়ে যান তারা। সেসময় লিটন তাদের কাছে ভাই আব্দুল মান্নান খোকনকে সাংগঠনিক পদে রাখার অনুরোধ করেন বলে আলোচনা আছে। লিটনের এমন আবদারে দেবু-আজিজ ইতিবাচক সমর্থন দেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তীতে বিদায় মুহূর্তে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় লিটন তাদের দুজনকে ৫ লাখ টাকা উপহার হিসেবে দেন। সেখান থেকে নিজের ভাগের আড়াই লাখ টাকাও আজিজ দেবুর হাতে তুলে দিয়ে বলেন পুরো টাকাটাই আপনি রেখে দিন, নতুন সভাপতি হয়েছেন, অনেক খরচ আছে, কাজে লাগবে। যদিও লিটনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ। তিনি বলেন, ‘গ্রুপিং রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠে আমরা চট্টগ্রামের প্রায় সব নেতাদের কাছে শুভেচ্ছাবিনিময় করেছি। যার অংশ হিসেবে প্যানেল মেয়রের বাসায়ও গিয়েছিলাম। কিন্তু তার কাছ থেকে আমাদের টাকা নেওয়ার বিষয়টি গুজব ছাড়া কিছুই নয়।’

লিটনের ভাইকে সাংগঠনিক পদে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজ বলেন, ‘১০১ জনের কমিটির মধ্যে ইতোমধ্যে আমরাসহ ২০ জনকে কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাকি ৮১টি পদে যাচাই-বাছাই করে আমরা তাদেরই আনবো যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকে বিগত ৬ মাসে খোকন দলের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে কাজ করেছে। তবে তাকে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়, কারণ সাংগঠনিক পদই খালি নেই।’

অন্যদিকে পিএস দাবি করা রুবেল শীল প্রসঙ্গে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু বলেন, ‘তিনি পাঁচলাইশ থানা পূজা কমিটির সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন কর্মী। তবে তার কোনো পদ-পদবি নেই। আর তিনি আমার পিএস হতে যাবেন কেন? আমার পিএস পরিচয় দেওয়ার কথা আমি জানি না, আমি কখনও তাকে এমনটা বলতে শুনিনি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার নাম বলে পদ পাইয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছে তাদের অনেককেই আমরা পদ দিতে পারছি না। সেক্ষেত্রে নতুন কোনো মুখ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আসার সুযোগ নেই। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি পদ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখায় এবং আর্থিক লেনদেনের কথা বলে সেগুলো বিশ্বাস না করার অনুরোধ থাকবে। এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পেলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

প্যানেল মেয়র লিটনের ভাই খোকনের স্বেচ্ছাসেবক লীগে সাংগঠনিক পদপ্রাপ্তির গুঞ্জন প্রসঙ্গে দেবু বলেন, ‘খোকন আজিজের কর্মী। দলের সভা-সমাবেশেও সে আসছে, কাজ করছে। কিন্তু তার সাংগঠনিক পদপ্রাপ্তির বিষয়ে আমি জানি না। কারণ আমি আমার তালিকা আর আজিজ তার তালিকা কেন্দ্রে দেবে সেখান থেকে কেন্দ্র কাদের রাখবে সেটা কেন্দ্রীয় নেতারাই ভালো বলতে পারবেন। গণ্যমান্য কারও ভাই হলেই কেন্দ্র তাদের পদ দেবে বলে আমার মনে হয় না। দলের জন্য ত্যাগ তিতিক্ষারও একটা ব্যাপার আছে।’

চসিকের প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে এসব প্রসঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘আপনাকে এক কথায় বলে দেই, আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগ করি না। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনও প্রশ্ন করবেন না। আল্লাহ হাফেজ।’- বলেই ফোন কেটে দেন লিটন।

এদিকে, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত ১৫ আগস্টের স্মরণসভায় উপস্থিত হতে গত ২৬ আগস্ট চট্টগ্রামে আসেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা। পরবর্তীতে সভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা (নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীসহ) দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সারেন আগ্রাবাদ হোটেলে।

এসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের সার্বক্ষণিক ঘিরে ছিলেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ-প্রত্যাশি একাধিক নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে মনির নামের একজন খাবারের বিল পরিশোধ করেন; যিনি নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে সাংগঠনিক পদ-প্রত্যাশি। এ ঘটনায় নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মনোক্ষুন্ন হন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে এমন কাজটি ভালোভাবে নেননি তারা। যদিও কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন।

এরপর ২৮ আগস্ট নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত ফ্রি চিকিৎসা ও রক্তদান কর্মসূচি শেষে আলোচনা সভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ (ব্যক্তিগত কারণে ওইদিন সকালেই ঢাকা চলে যাওয়ায় উপস্থিত ছিলেন না গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু) সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে অতিথি করা হয়। সেই কর্মসূচির জন্য অর্থিক অনুদান দেওয়ায় চসিক প্যানেল মেয়র লিটনকেও অতিথি করেন দেবু-আজিজ। যদিও অনুষ্ঠানে লিটনের আকস্মিক উপস্থিতি দেখে অবাক হন অনেকেই।

অনুষ্ঠান শেষে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে পদ-প্রত্যাশিদের নিয়ে হঠাৎ করেই পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, নগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি ফারুক আমজাদ খান, ড. জমির উদ্দিন শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম আজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা।

সেখান থেকে সরাসরি তারা চলে যান প্যানেল মেয়র লিটনের বাসায়। যদিও এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দেবু-আজিজও যান লিটনের বাসায়। জানা গেছে, লিটনের ভাই আব্দুল মান্নান খোকনকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের মনজয়ের উদ্দেশ্যেই লিটন এই দাওয়াত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের। নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের পদপ্রার্থীদের বাসায় খাওয়া-দাওয়া করা, খাবারের বিল দিতে দেওয়া, তাদের সাথে খোলাখুলি মেলামেশা, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বাদ দিয়ে গোপনে পদ-প্রত্যাশিদের সাথে সমুদ্রবিলাসের ঘটনা জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনার। কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন কর্মকাণ্ড ভালোভাবে নিচ্ছেন না নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতাকর্মী।

এ প্রসঙ্গে জানতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান; পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চুকে একাধিক ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ মার্চ তিন বছর মেয়াদে ২০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেসময় ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সাড়ে ৬ মাস পরও সেই নির্দেশনা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। তবে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোতে নতুন কমিটি গঠনে মনোযোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এরপর থেকেই তৎপরতা বেড়েছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের মধ্যেও। যার প্রেক্ষিতে দ্রুত ঘোষণা হতে যাচ্ছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও দেবুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনা মুখে তদন্ত কমিটি গঠন ও এর প্রতিবেদন জটিলতায় তা থমকে আছে।

তবে ইতোমধ্যেই নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে পদে আনতে পৃথক তালিকা করেছেন দেবু ও আজিজ। কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রীন সিগন্যাল পেলেই তালিকা দুটি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে বসবেন তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যদিও দেবুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ১০ দিনের সময়সীমা (১৮ সেপ্টেম্বর) পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি দেবুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ বেশ গুরুতর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে দেবুকে। যার আভাস সম্প্রতি একুশে পত্রিকাকে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি। তাই দলের ইমেজ রক্ষায় এই বিষয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।