
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় জনপদ বদরখালীতে সরকারি টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে পাশের নদীতে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির ঘটনায় একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দখলদারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব বদরখালী করিয়ারদিয়া ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি জনস্বার্থে ওই এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা তৈরি না করতে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি টোল পয়েন্ট এলাকায় বাইরে থেকে এনে মজুদ করা বালু ও কংক্রিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদার, বদরখালী সমিতির সম্পাদক, ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট ইজারাদার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে টোল পয়েন্ট এলাকাকে দখলবাজিমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে বিষয়টি তদারকির জন্য স্থানীয় বদরখালী সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতির সম্পাদক মঈন উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, বদরখালী করিয়ারদিয়া ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে মর্মে গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেখানে অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের উল্লিখিত বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আমার অফিসে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি দখলবাজ চক্র বদরখালী করিয়ারদিয়া ফেরিঘাট নামক সরকারি টোল পয়েন্টটি দখলে নিয়ে সেখানে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির কাজ শুরু করেছিল।
এলাকাবাসী ও ঘাট পারাপাররত লোকজন জানান, সরকারি এই টোল পয়েন্ট দিয়ে নদী পারাপার করার সময় এমনিতেই জনগণকে মাশুল দিতে হয়। সেখানে নতুন করে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির মাধ্যমে অভিযুক্ত চক্রটি পণ্যবাহী নৌযান এবং সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে টোল আদায়ের ফন্দি এঁটেছিল।
স্থানীয়রা জানান, এই অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বদরখালী উত্তর নতুনঘোনা এলাকার কামাল হোছাইন। তার ও তার ছেলেদের নেতৃত্বে নুরুল কবির, আবুল হাশেম, হারুনর রশিদ, জিয়াবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলীসহ একটি চক্র এই অপকর্মে লিপ্ত।
উপজেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য (এক বছর মেয়াদে) বদরখালী করিয়ারদিয়া ফেরিঘাট সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন বদরখালী মাতারবাড়িপাড়ার কবির আহমদের ছেলে দিদারুল ইসলাম মজিদ। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তারিখে জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রুবাইয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ইজারাদার দিদারুল ইসলাম মজিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা গ্রহণের পর ইতিমধ্যে ১০ মাস সময় অতিবাহিত হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী আরও দুই মাস টোল পয়েন্টের মেয়াদ আমাদের অনুকূলে রয়েছে। সরকারি রাজস্ব দেওয়ার পরও এলাকাবাসীর অনুরোধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোককে আরও বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে, যার প্রমাণপত্রও আছে। এখন দেখছি, যারা সরকারি ডাকের বাইরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, তারাই জোরপূর্বক টোল পয়েন্ট দখলে নিয়ে পাশের নদীতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে।
