
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় বদরখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশাসনিক ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট দখল ও নদী ভরাট করে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র বদরখালী করিয়ারদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এই অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করে। তবে খবর পেয়ে দ্রুত অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি টোল পয়েন্টের জায়গা দখল করে সেখানে ডকইয়ার্ড তৈরির কর্মযজ্ঞ চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ঘাট ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেন, সরকারি এই টোল পয়েন্ট দিয়ে পারাপারের সময় এমনিতেই টোল দিতে হয়। এখন নতুন করে অবৈধ ডকইয়ার্ড তৈরির মাধ্যমে চক্রটি পণ্যবাহী নৌযান ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ব্যক্তিগতভাবে বাড়তি টাকা আদায়ের বা পকেট কাটার ফাঁদ তৈরি করছে।
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য (এক বছর মেয়াদে) বদরখালী করিয়ারদিয়া ফেরিঘাটের ইজারা পেয়েছেন বদরখালী মাতারবাড়ি পাড়ার কবির আহমদের ছেলে দিদারুল ইসলাম মজিদ। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রুবাইয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ইজারাদার দিদারুল ইসলাম মজিদ অভিযোগ করে বলেন, ইজারা গ্রহণের পর ১০ মাস পার হয়েছে এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী আরও দুই মাস মেয়াদ আছে। সরকারি রাজস্ব দেওয়ার পরও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কথা বলে চাঁদা দিতে হয়েছে। এখন তারা সরকারি ডাকের বাইরে গিয়ে জোরপূর্বক টোল পয়েন্ট দখল করে নদীতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দখলের নেপথ্যে রয়েছেন বদরখালী উত্তর নতুনঘোনা এলাকার কামাল হোছাইন এবং তার ছেলেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট।
তবে অভিযুক্ত কামাল হোছাইন দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফেরিঘাটের মাথাখিলা জায়গাগুলো আমাদের বেশ কয়েকটি পরিবারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। মূলত আমরা টোল পয়েন্টের বাইরে নদীতে পড়ে যাওয়া ওই মাথাখিলা জায়গায় স্থাপনা করছি। এতে এলাকার অনেকের রোজগারের ব্যবস্থা হবে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ফেরিঘাটের টোল পয়েন্ট দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরির খবর পেয়েই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেনকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব জানান, ইউএনও স্যারের নির্দেশের পরপরই ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ সেখানে অবৈধ স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি আমাদের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।