সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চুল কাটতে গিয়ে নিখোঁজ শিশু, পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৭ অপরাহ্ন


চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পর ডান পা হারানো পঙ্গু অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে ১২ বছরের এক শিশু। বেশি টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে আটকে রেখে পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ভোরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি সীরত মাহফিলে হঠাৎ দেখা মেলে ওই শিশুটির। শিশু আইন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তার এবং পরিবারের পরিচয় গোপন রাখা হলো।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস আগে বাবা তাকে ১০০ টাকা দিয়ে চুল কাটতে পাঠান। অভিমান করে সে বাড়ি থেকে কক্সবাজারে চলে যায়। সেখানে সমুদ্রসৈকতে প্রায় দুই মাস কাজ করার পর অপরিচিত এক ব্যক্তি বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি গাছপালা ঘেরা একটি টিনের ঘরে তাকে রাখা হতো। সেখানে তার মতো আরও প্রায় ২০ জন শিশু ছিল। সালমা নামে এক নারীসহ আরও দুই ব্যক্তি তাদের পাহারা দিত।

শিশুদের দিয়ে প্রথমে রেলস্টেশনে পানি বিক্রি করানো হতো। আয় কম হওয়ায় একপর্যায়ে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর জন্য ডান পা কেটে দেওয়া হয়।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ডান পা কাটা অবস্থায় নিজেকে দেখতে পায় ওই শিশু। পরে চক্রের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসকদের কাছে মিথ্যা বলতে বাধ্য করে যে, ট্রেনে দুর্ঘটনায় পা কেটে গেছে। শনিবার ঢাকা থেকে একটি গাড়িতে তুলে দিয়ে তার হাতে ৩৫০ টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়।

চুনতি সীরত মাহফিলে শিশুটিকে দেখে স্থানীয়রা তার পরিবারকে খবর দেন। ছেলের শারীরিক অবস্থা দেখে বাবা ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, তার সুস্থ ছেলেকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।

পেটের ডান পাশে ও পেছনেও ক্ষতচিহ্ন থাকায় কিডনি চুরির আশঙ্কা করছেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন শিশুটির বাবা।

জাতীয় লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের প্যানেল আইনজীবী মো. নওশাদ আলী জানান, ঘটনাটি মানবপাচার, অঙ্গহানি ও শিশু নির্যাতনের গুরুতর অপরাধ।

তদন্ত সাপেক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এবং শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দ্রুত মেডিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, ভুক্তভোগীর বাবা থানায় এসেছিলেন। ঘটনাস্থল লোহাগাড়া না হওয়ায় তাকে মতিঝিল থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।