
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
পাশাপাশি আগামী তিন মাসে জেলার দুই হাজার মসজিদ পরিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শনিবার দুপুরে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে চসিক মেয়র এই আহ্বান জানান।
এর আগে সকাল ৯টায় তিনি দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। পরে তিনি মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেন।
মেয়র জানান, শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক চেষ্টায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্টসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে।
এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত বিটিআই লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২ জন। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মেয়র উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ডেঙ্গুতে যেন আর কোনো প্রাণ না ঝরে, সেজন্য মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সময়োপযোগী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও একই সাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে।
শনিবার নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সেখানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ও আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, তারা আর একটি প্রাণও হারাতে চান না।
পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত করা সবার দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি তিন মাসে জেলার দুই হাজার মসজিদ পরিষ্কার করার ঘোষণা দেন।