
পটিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসদরের শতবর্ষী মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১২ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। শিক্ষার পরিবেশ, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালনার ওপর এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে বলে তিনি জানান।
পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আয়োজনে এই মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিশকাত আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাম্মেল হক, পটিয়া লাইফ কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. জালাল উদ্দীন এবং পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া ক্লাবের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ইদ্রিস পানু, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুনুর রশিদ, প্রধান শিক্ষিকা চাঁদ সুলতানা, সাবেক প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার, আখতারুজ্জামান বাবলু ও আলমগীর বাবু উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সকালে স্মৃতিচারণ, দুপুরে আলোচনা সভা এবং বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্কুলজীবনের পুরোনো দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন।
দীর্ঘ ১১২ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।