
‘কোন দেশ বেছে নেবো? কোন বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য উপযুক্ত হবে? আমার ফলাফল দিয়ে আদৌ কোথাও ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? খরচ কত হবে? বৃত্তির সুযোগ মিলবে তো?’
প্রতি বছর দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী যখন বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন, ঠিক এ রকম একগুচ্ছ প্রশ্নে আটকে যান। সিদ্ধান্তটা এত বড় যে কোথা থেকে শুরু করবেন- সেই দ্বিধায় অনেকেই হিমশিম খান।
চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমানও একই ভাবনায় দিন গুনছিলেন। বিদেশে মাস্টার্স করতে চান তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে শুরু করে খরচ, বৃত্তি ও ভিসাসংক্রান্ত তথ্য খুঁজে বেড়াতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। এক উৎস বলছে এক কথা, আরেক উৎস বলছে তার উল্টো।
ঠিক এ জায়গাতেই তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাডমিশনএরিনা ডটকম’।
এক প্ল্যাটফর্মে অনেক উত্তর
বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা সহজ কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, ভর্তি সম্ভাবনা, পড়াশোনার খরচ, বৃত্তি কিংবা ভিসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে পড়তে হয় নানা জটিলতায়।
এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও তথ্যনির্ভর করে তুলতেই তৈরি করা হয়েছে ‘অ্যাডমিশনএরিনা’ নামের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর উদ্দেশ্য একটাই- বিদেশে পড়াশোনার জন্য কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগেই শিক্ষার্থীরা নিজের যোগ্যতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা নিতে পারেন।
প্ল্যাটফর্মটিতে রাখা হয়েছে বেশ কিছু সহায়ক সুবিধা। এর মধ্যে আছে ভর্তি সম্ভাবনা যাচাই, বৃত্তির যোগ্যতা নির্ধারণ, পড়াশোনার সম্ভাব্য খরচ হিসাব, বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা, আইইএলটিএসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরীক্ষার নম্বর হিসাব, শিক্ষার্থী ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা এবং উদ্দেশ্যপত্র (এসওপি) তৈরিতে সহায়তা করা।
এসব সুবিধা ব্যবহার করে একজন শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক প্রাথমিকভাবে যাচাই করতে পারেন।
আগে জানুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়, খরচ, বৃত্তি, ভর্তি যোগ্যতা ও ভিসাসংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন উৎসে ছড়িয়ে থাকায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে ওঠে কঠিন।
অ্যাডমিশনএরিনার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান নিয়াজ বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষা একজন শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের জন্য বড় একটি সিদ্ধান্ত। আমরা চাই, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থী যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় তথ্য নিজেই যাচাই করতে পারুক। প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াটিকে সহজ, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করাই অ্যাডমিশনএরিনার লক্ষ্য।”
তবে প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, এখানে প্রদত্ত ফলাফল কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি কিংবা ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ও কাঠামোবদ্ধ ধারণা পান- সেটিই এর একমাত্র উদ্দেশ্য।
তাদের দর্শনে, একজন শিক্ষার্থী প্রথমে নিজের যোগ্যতা যাচাই করবেন, সম্ভাব্য দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানবেন, পড়াশোনার সম্ভাব্য খরচ বুঝবেন এবং কী প্রস্তুতি নিতে হবে- সেই ধারণা নিয়ে পরবর্তী ধাপে এগোবেন। এরপর প্রয়োজন মনে করলে উপযুক্ত ও যাচাইকৃত শিক্ষা পরামর্শদাতা বা সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
পরামর্শকের বিকল্প নয়, সহায়ক
বিদেশে উচ্চশিক্ষার বাজারে অনেক শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করে আসছে। কিন্তু অ্যাডমিশনএরিনাকে সেই প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, ভুল তথ্য, অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি কিংবা নিজের যোগ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরামর্শ শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মূল্যবান সময়ও নষ্ট করে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সেই কারণেই প্ল্যাটফর্মে প্রদত্ত ফলাফলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে ‘প্রাথমিক নির্দেশনা’ হিসেবেই বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্যে আছে বড় স্বপ্ন
অ্যাডমিশনএরিনার উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতে প্ল্যাটফর্মটিকে এমন এক ডিজিটাল ঠিকানায় পরিণত করতে চান, যেখানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ভাবনা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা, নিজের যোগ্যতা যাচাই, খরচ ও বৃত্তির সম্ভাবনা বিশ্লেষণ- পুরো যাত্রাটাই আরও সংগঠিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
কামরুল হাসান নিয়াজ বলেন, “আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য খুবই সহজ- যখন কোনো শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার কথা ভাববে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন অ্যাডমিশনএরিনায় এসে নিজের সম্ভাবনা যাচাই করতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেই প্রথম জায়গাটি হতে চাই।”
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করবে এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদেশে উচ্চশিক্ষার বাজারে নিজের জায়গা গড়ে তুলবে- সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ওয়েবসাইট: AdmissionArena.com