
একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বরইতলী বেইলি সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে করে ওই পথে চলাচলকারী প্রায় আড়াই হাজার মানুষের দুর্ভোগ, প্রাণহানির শঙ্কা ও ডাকাতির ঝুঁকি কমবে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
গত ১৩ এপ্রিল একুশে পত্রিকায় ‘চকরিয়ার বরইতলী বেইলি সেতু এখন মরণফাঁদ, গাড়ি ধীর করলেই ডাকাতের হানা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তা কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরীর নজরে আসে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারও বিষয়টি স্বপ্রণোদিত হয়ে আমলে নিয়ে দ্রুত সংস্কারের জন্য সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জীর্ণশীর্ণ এই সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতনগুলো সংস্কারের জন্য চকরিয়া উপবিভাগকে নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনার আলোকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বেইলি সেতুটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সওজ চকরিয়া উপবিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. কুতুবউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সহকারী প্রকৌশলী মো. কুতুবউদ্দিন জানান, ভেঙে খুলে যাওয়া পাটাতনের জায়গায় নতুন পাটাতন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং যেসব পাটাতন সামান্য নষ্ট হয়েছে, সেগুলো সারিয়ে তোলা হচ্ছে। রোববার বিকালের মধ্যে সংস্কার কাজ পুরোদমে শেষ হবে। তবে এই সংস্কার চলাকালেও সেতু দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
বর্তমানে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া জোন) মো. রাহাত আলম সরাসরি উপস্থিত থেকে এই সংস্কার কাজের তদারকি করছেন।
সেতুর বেহাল দশার কারণ উল্লেখ করে সহকারী প্রকৌশলী মো. কুতুবউদ্দিন আরও জানান, গত বছরও বরইতলী বেইলি সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতনগুলো সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে চোরের দল নতুন লাগানো বেশিরভাগ পাটাতন খুলে নিয়ে যায়। কিছু পাটাতন নষ্টও হয়ে যায়, যার ফলে সেতুটি ফের মরণফাঁদে পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় সেতুটির পাটাতনের ফুটোয় আটকে পড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটত। এছাড়া বেইলি সেতুর এই ভগ্নদশার কারণে চালকদের গাড়ির গতি কমাতে হতো। সেই সুযোগে সন্ধ্যার পর ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা যাত্রী এবং পথচারীদের ওপর হামলে পড়ত। সংস্কার কাজ শেষ হলে যান চলাচলে আর বেগ পেতে হবে না এবং ছিনতাইকারীদের হামলার আতঙ্কও কাটবে বলে মনে করছেন চালক ও যাত্রীরা।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, সেতুটি কয়েক যুগ আগে নির্মিত হওয়ায় কাঠামোগতভাবে এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমে লেখালেখির বদৌলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতনগুলোর সংস্কার কাজ শুরু করায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান আরও বলেন, যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বরইতলী ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের বাসিন্দাসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে নিস্তার পেয়েছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকিও কমেছে।
স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানান, বরইতলী বেইলি সেতুটি বেশ পুরোনো হওয়ায় এর অবকাঠামো বর্তমানে দুর্বল হয়ে গেছে। তাই সেখানে একটি নতুন পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সওজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদা প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সহযোগিতায় পাকা সেতু স্থাপনের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
