সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ার বরইতলী বেইলি সেতু এখন ‘মরণ ফাঁদ’: গাড়ি ধীর করলেই ডাকাতের হানা

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ৬:৪২ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের শান্তিবাজারের একটু পশ্চিমে অবস্থিত বরইতলী বেইলি সেতুটি বর্তমানে রীতিমতো ‘মরণ ফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। সেতুর একাধিক লোহার পাটাতন খুলে এবং ভেঙে গিয়ে বিশাল আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার পাশাপাশি গাড়ি ধীরগতি করলেই ঘটছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পুরোনো পাটাতন মেরামত না করায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির এমন বেহাল দশা হয়েছে। পাটাতনের গর্তে আটকে পড়ছে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। যেকোনো সময় চালক ও যাত্রীদের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান জানান, কয়েক যুগ আগে নির্মিত এই বেইলি সেতুটি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচলের কারণে বিভিন্ন অংশের পাটাতন ভেঙে ও খুলে গিয়ে মাঝখানে ফুটো হয়ে গেছে। সেতুটি কাঠামোগতভাবেও অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান আরও বলেন, প্রতিদিন বরইতলী ইউনিয়নসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ এবং পণ্যবাহী গাড়ি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে মেরামত কাজ বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান।

এদিকে, বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ার কারণে ওই স্থানে পৌঁছালে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন চালকরা। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই সুযোগে সন্ধ্যার পর ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা যাত্রী ও পথচারীদের ওপর হামলে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সন্ধ্যার পর ডাকাতির ভয়ে এই পথে মানুষ ও যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রয়েছেন চালক ও সাধারণ জনগণ। পরিস্থিতি নিরসনে বেইলি সেতুর পাটাতন দ্রুত সংস্কার করে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সড়ক বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

তবে সংস্কার কাজ নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (চকরিয়া উপবিভাগ) সহকারী প্রকৌশলী মো. কুতুবউদ্দিন। সহকারী প্রকৌশলী মো. কুতুবউদ্দিন জানান, গত বছরও বরইতলী বেইলি সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতনগুলো সংস্কার করা হয়েছিল।

সড়ক বিভাগ নতুনভাবে যেসব পাটাতন সেখানে লাগিয়েছিল, তার বেশিরভাগই রাতের আঁধারে চোরের দল নিয়ে গেছে এবং কিছু নষ্ট হয়ে গেছে বলে মো. কুতুবউদ্দিন উল্লেখ করেন।

সহকারী প্রকৌশলী মো. কুতুবউদ্দিন আরও জানান, সেতু এলাকায় অনভিপ্রেত কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আজকালের মধ্যে বিষয়টি সওজের জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হবে। এরপর তার দিকনির্দেশনার আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত পাটাতনগুলো সংস্কারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মো. কুতুবউদ্দিন আশ্বস্ত করেন।